‘‌অদক্ষ আমলাদের দিয়ে কী হবে?’

নিজস্ব প্রতিবেদক : হাইকোর্ট বলেছে, ‘নিমতলী ও চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর সহানুভূতির কোনো কমতি নেই।কিন্তু তার একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। উনার এত সময়ও নেই যে সব বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন। নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের পর পুরান ঢাকা নিয়ে ১৭ দফা সুপারিশ করেছিলো সরকারি তদন্ত কমিটি। অথচ ৯/১০ বছরেও সেই সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে পারেননি আমলারা। এই অদক্ষ আমলাদের দিয়ে কী হবে?’

আদালত বলে, ‘চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের পর সরকারের সাবেক দুই শিল্পমন্ত্রী বাহাসে জড়িয়ে পড়েছেন। এই বাহাসে সরকার সম্পর্কে জনগণের ধারণা কোথায় যায়? সেটাও ভেবে দেখা দরকার।’

বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আজ মঙ্গলবার অ্যাটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে এ মন্তব্য করেন। একইসঙ্গে ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত। আদেশপ্রাপ্তির চার সপ্তাহের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, শিল্প সচিব, জ্বালানি সচিব, বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানসহ দশ বিবাদীকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

চকবাজারে চুড়িপট্টির অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়েরকৃত এক গুচ্ছ রিট আবেদনের ওপর শুনানিকালে অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মাহবুবে আলমের উদ্দেশ্যে আদালত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য বিভিন্ন দেশ সফর করছেন। দেশে অর্থনৈতিক উন্নতি হচ্ছে। অথচ ১৭ দফা সুপারিশ বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ নেয়নি দায়িত্বপ্রাপ্তরা (আমলারা)। তাদেরকেই এটার বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা তো রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি স্থানান্তর নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা দেখেছি। এজন্য বারবার আদালতকে আদেশ প্রদান করতে হয়েছে।’

আদালত বলে, ‘পুরান ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করে তুলতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নিতে হবে। কারণ এখানে রাস্তাগুলো খুবই সরু। যার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশ করতে পারে না। জায়গার অভাবে বৈদ্যুতিক খুটিগুলো এমনভাবে রাখা হয়েছে যে বাসা থেকে কেউ হাত বাড়ালেই দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। প্রয়োজনে ভবন ভাঙ্গতে হবে। এগুলো সরকারকে বাস্তবায়ন করতে হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘পৃথক কেমিক্যাল পল্লী বানানো একটি ভালো সিদ্ধান্ত। কিন্তু এজন্য জমি অধিগ্রহণ সময়ের ব্যাপার। আদালতের জিজ্ঞাসার জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যারা অগ্নিকাণ্ডে মারা গেছেন তাদেরকে এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে।’ আদালত বলেন, ‘এটা পর্যাপ্ত নয়। আমরা চাচ্ছি, তাদেরকে যেন ৫ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়।’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘এভাবে আদেশ দিলে যে কোনো ঘটনায় সবাই আদালতে ছুটে আসবে। আমি সরকারকে আদালতের এই মনোভাব জানাব।’

এর আগে একগুচ্ছ রিটের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী জেডআইখান পান্না, রুহুল কুদ্দুস কাজল, মো. রিয়াজ উদ্দিন, অমিত দাসগুপ্ত, ইউনূস আলী আকন্দ অংশ নেন।

শুনানিতে আইনজীবীরা বলেন, ‘১৭ দফার বাস্তবায়ন হলে নিমতলীর মত ঘটনা চকবাজারে ঘটত না। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট একটি রিট আবেদনের ওপর রুল জারি করে। বাকি চারটি রিট আবেদনের শুনানি চার সপ্তাহ পর্যন্ত স্ট্যান্ডওভার (মুলতুবি) করে আদালত।