২৮ বছর প্রতীক্ষার পর ডাকসু ভোট

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবগুলো বাঁকে ছাত্র সমাজের অগ্রণী ভূমিকার কেন্দ্রে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের নির্বাচন হচ্ছে দীর্ঘ ২৮ বছর পর।

সোমবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ইতোমধ্যে ভোটগ্রহণের সব আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। এরপর কয়েক দফায় নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

এরপর নির্বাচন চেয়ে তৎকালীন ছাত্র আলী আসিফ শা্ওন (বর্তমানে সাংবাদিক) এবং তার সহযোগি বন্ধুরা আদালতে রিট আবেদন করেন। রিটের নাম ছিল আলী আসিফ শা্ওন গং এবং রাষ্ট্র। আবেদনে পরে তার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করে এই নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশ আসে। তারপর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগ নেয়।

ভোটকেন্দ্র হলে স্থাপন নিয়ে ছাত্রদলসহ অধিকাংশ সংগঠন আপত্তি তুললেও তা উপেক্ষা করেই গত ২ ফেব্রুয়ারি তফসিল ঘোষণা করেন এই নির্বাচনের প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান।

ডাকসুতে ২৫ পদের বিপরীতে মোট প্রার্থী হয়েছেন ২২৯ জন এবং ১৮টি হল সংসদে ১৩টি করে ২৩৪টি পদে বিরপরীতে প্রার্থী আছেন ৫০৯ জন।

নির্বাচনে মোট ভোটারের সংখ্যা ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। তার মধ্যে ৫টি ছাত্রী হলের ভোট ১৬ হাজার ৩১২। ১৮টি হলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার ছাত্রীদের রোকেয়া হলে, মোট ৪ হাজার ৬০৮ জন।

চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১জন; তাদের সঙ্গে এই নির্বাচনে ১৪ জন লড়বেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং ১৩ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে।

১২টি প্যানেলের বাইরে ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে ২ জন স্বতন্ত্র হিসাবে নির্বাচনে লড়বেন।

কেন্দ্রীয় ডাকসুতে পূর্ণাঙ্গ প্যানেল দিয়েছে ছাত্রলীগ, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বাম সংগঠনগুলোর জোট, কোটা আন্দোলনকারীদের বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, স্বাধিকার স্বতন্ত্র পরিষদ, স্বতন্ত্র জোট, জাসদ ছাত্রলীগ, ছাত্রলীগ-বিসিএল, ছাত্র মৈত্রী, ইশা ছাত্র আন্দোলন, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট ও ছাত্র সমাজ।

ক্ষমতাসীন ১৪ দলের ছাত্র সংগঠনগুলোর জোট ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ একই সঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও শেষ পর্যন্ত তারা সে অবস্থানে থাকেনি। ছাত্রলীগ, জাসদ ছাত্রলীগ এবং বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী আলাদা প্যানেল দিয়েছে।

ছাত্রলীগ থেকে ডাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে সংগঠনের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

অন্যদিকে ভিপি পদে সংগঠনের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান, জিএস পদে জহুরুল হক হল শাখার যুগ্ম-আহবায়ক আনিসুর রহমান খন্দকার অনিক এবং এজিএস পদে বঙ্গবন্ধু হল শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক খোরশেদ আলম সোহেলকে মনোনয়ন দিয়েছে ছাত্রদল।

বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর দুই মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ছাত্রঐক্যের ১১টি সংগঠন মিলে একটি প্যানেল দিয়েছে।

তাদের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী হচ্ছেন ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী। জিএস প্রার্থী হচ্ছেন ছাত্র ফেডারেশনের একাংশের ফয়সাল মাহমুদ সুমন এবং এজিএস প্রার্থী হচ্ছেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের একাংশের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সাদেকুল ইসলাম সাদিক।

শুরুতে ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরকে জিএস প্রার্থী করা হলেও তার ছাত্রত্ব নিয়ে জটিলতায় ছাত্র ফেডারেশন (বদরুদ্দিন ওমর) ফয়সাল মাহমুদ সুমনকে বেছে নেয় বাম সংগঠনগুলো।

তবে শেষ পর্যন্ত ছাত্রত্ব টিকে যাওয়ায় ছাত্র ফেডারেশন থেকেই জিএস পদে প্রার্থিতায় আছেন বেনজীর।

ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে তিন দশক পর ডাকসু নির্বাচন হতে যাচ্ছে তিন দশক পর
কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বামদের জোটবদ্ধ প্যানেলের একটি গুঞ্জন শোনা গেলেও তা ফলেনি।

বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্যানেলে ভিপি প্রার্থী হচ্ছেন এই প্ল্যাটফর্মের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক নূর। আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্সুরেন্স বিভাগের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রাশেদ খান জিএস এবং আরেক যুগ্ম-আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হাসান এজিএস পদে লড়বেন।

ছাত্র মৈত্রীর প্যানেলে সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি রাসেল শেখকে ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সহ-সভাপতি সনম সিদ্দিকী শিতি জিএস এবং আরেক সহ-সভাপতি সানজীদা বারী এজিএস প্রার্থী হচ্ছেন।

জাসদ ছাত্রলীগের প্যানেলে মাহফুজুর রহমান রাহাতকে ভিপি, শাহরিয়ার রহমান বিজয়কে জিএস এবং নাঈম হাসানকে এজিএস প্রার্থী হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে।