হতাশা: বিএনপির প্রায় শতাধিক কেন্দ্রীয় নেতা রাজনীতি থেকে অবসরে যাচ্ছেন

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক :দিন দিন বিএনপির নেতা-কর্মীদের রাজনীতি ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, হতাশা, ক্ষোভ এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এর প্রধান। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই এ মাত্রা প্রবল হয়েছে। বিশেষ করে তৃণমূলে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাঠে বিএনপির কোন রাজনীতি না থাকায় এমনকি নেতাদের কোন নেতৃত্ব না থাকায় কর্মীরা চরম হতাশ হয়ে পড়েছে। আর এ হতাশা থেকে প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন জেলা থেকে বিএনপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা বিএনপির রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়ে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে কিংবা ভিন্ন কোন প্লাটফর্মে যোগ দিচ্ছেন। অনেকে নিজের ব্যবসা বাণিজ্যে মনযোগি হচ্ছেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, তৃণমূল নেতা-কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি হতাশার মধ্যে রয়েছে। কারণ জেলার নেতারাও বর্তমানে রাজনীতি থেকে যোজন-যোজন দূরত্বে আছেন। রাজনৈতিক কোন কর্মসূচি না থাকায় জেলার নেতারা অনেকটা গা-ঢাকা অবস্থায় সময় পার করছেন। তাছাড়া জেলার নেতারা কর্মীদের কোন খোঁজ-খবর না নেয়ার কারণেও এ হতাশা বেড়েই চলছে।

এদিকে, তৃণমূলের প্রভাব কেন্দ্রেও পড়েছে। কেন্দ্রের প্রভাবশালী এবং ডাকসাইটে নেতারা রাজনীতিকে গুডবাই জানিয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনের পথ খুঁজছেন। এ ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে একদা হাওয়া ভবনের প্রভাবশালী পৃষ্ঠপোষক এবং খুলনা বিএনপি নেতা আলী আসগর লবী, বগুড়া বিএনপির প্রভাবশালী নেতা, তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ শোকরানা বিএনপির রাজনীতির সাথে সর্ম্পকছিন্ন করেছেন। শোকরানা ইতিমধ্যে কানাডা পাড়ি জমিয়েছেন। আর আলী আসগর লবী আওয়ামী রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছেন।

এদিকে, বর্তমানে লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ উদীয়মান ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম ইতিমধ্যে বিএনপির রাজনীতিকে গুডবাই জানানোর প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে গত সোমবার সন্ধ্যায় একটি গোলাপী রঙের ব্যানারে বিস্ময় সূচক চিহ্ন দিয়ে লেখেন- নিড পলিটিক্যাল এলপিআর।

জানা গেছে, ব্যারিস্টার নাসিরউদ্দিন অসীমের পথ ধরে কেন্দ্রের প্রায় শতাধিক পরীক্ষিত নেতা বিএনপির রাজনীতিকে গুডবাই জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা সাংবাদিক শওকত মাহমুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, রাজনীতি একটি কর্ম। আর সে কর্ম যদি কোন না কোন ভাবে বন্ধ থাকে তাহলে কর্মীরা তো হতাশ হবেই। হতাশা থেকে এমনটি হচ্ছে বলে তিনি অভিমত দেন । তবে তিনি জানান, এ অন্ধকারাচ্ছন্ন অবস্থা সহসাই কেটে যাবে, উদিত হবে নতুন সূর্য। তবে এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, যারা দল ছাড়ছেন তাদের মধ্যে কোন আদর্শ নেই। শুধুমাত্র আদর্শহীনরাই বিএনপি ছাড়তে পারেন।