স্বামীর দাফন শেষ করে ফেরার পথে স্ত্রীর মৃত্যু

সংবাদদাতা

মৌলভীবাজার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় স্বামীর দাফন শেষ করে রেল যোগে চট্টগ্রামের ফেরার পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় দুর্ঘটনায় স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত নারীর নাম জাহেরা খাতুন। এই ঘটনায় তার মা, দুই ছেলে ও দু’মেয়ে আহত হয়েছে।

নিহতের নিকটতম আত্মীয় মোহাম্মদ জসিম জানান, গত বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজে দায়িত্ব পালন করার সময় জাহেরার স্বামী মোহাম্মদ মুসলিম দুর্ঘটনায় মারা যায়। নিহত মুসলিমের মরদেহ নিয়ে, গত শনিবার (৯ নভেম্বর) তাদের সন্তান সুমন, ইমন, মীম, সুমি, জাহেরা খাতুনসহ তার মা সুরাইয়া খাতুন শ্রীমঙ্গল গ্রামে যায়।

তিনি আরও জানান, তাদের বাড়ি শ্রীমঙ্গল গাজীপুর গ্রামে। সেখানে মুসলিমের দাফনসহ আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে, চট্টগ্রাম সদর ভাটিয়ালি এলাকায় তাদের বর্তমান ঠিকানায় ট্রেন যোগে ফিরছিল। সোমবার (১১ নভেম্বর) রাতে ফেরার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় জাহেরার মৃত্যু হয় ও তার সন্তান সুমন আহত হলেও মোটামুটি ভালো আছে। ইমনের দু’পা ভেঙে গেছে, সে পঙ্গু হাসপাতালে আছে। তার বোন কলেজছাত্রী সোমা আক্তার সুমিকে সন্ধ্যার পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে আনার পরে চিকিৎসকরা সিটিস্ক্যান করান। তার মাথায় কোনো ইনজুরি না থাকায় দ্রুত তাকে আবার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার করেছেন। তার দু’পায়ে ফ্যাকচার আছে। এছাড়া ট্রেন দুর্ঘটনায় জাহেরার মা সুরাইয়া পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ও জাহেরার সন্তান মীম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ঢামেক পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল একেএম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, ট্রেন দুর্ঘটনার পরপরই হাসপাতালে একটি বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। কারণ অনেকে আহত হয়েছেন। এই পর্যন্ত আমাদের এখানে তিনজন এসেছিল। এদের মধ্যে দু’জন যুবক। তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের শরীরে ফ্যাকচার আছে এবং সুমি নামে একটি মেয়ে সন্ধ্যার পরে এসেছিল। তাকে সিটিস্ক্যান করিয়েছেন চিকিৎসকরা এবং তার মাথায় কোনো আঘাত নেই। তার পরিবারের অন্য দু’জন পঙ্গু হাসপাতালে থাকায় তারা সুমিকে নিয়ে পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।