স্বদেশ ইসলামী লাইফে প্রশাসক নিয়োগ দিলেন-আইডিআরএ

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ অবসরপ্রাপ্ত পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড.শেখ মহ.রেজাউল ইসলামকে প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদান উপলক্ষে স্বদেশ লাইফ ইন্সুরেন্স এর প্রধান কার্যালয়ের হলরুমে যোগদান কৃত প্রশাসক মহোদয় কে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন কোম্পানির সিওও জাহাঙ্গীর আলম মোল্লা, আরো উপস্থিত ছিলেন কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (সিএসও এবং সিএস) এ জেড কাওছার,ও অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এইচওবি) এ বি এম মহিউদ্দিন বাবলু।
অনুষ্ঠানের কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগন ও ইনডোর স্টাফগণ উপস্থিত ছিলেন। বরণ অনুষ্ঠানে প্রশাসক মহোদয় বলেন সততার সঙ্গে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কে বাংলাদেশের শুভ প্রতিষ্ঠিত করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ পাশাপাশি সকলের সহযোগিতা চান।

আইডিআরএ-কর্তৃপক্ষের পরিচালক (উপসচিব) আহম্মদ এহসান উল হান্নান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, স্বদেশ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক বীমা আইন, ২০১০ এর ৮০ (৪) ধারার সুষ্পষ্ট লংঘন করায় স্বদেশ বীমা আইন ২০১০ এর ৮০(৫) ধারা মোতাবেক অতিরিক্ত সচিব (অব) ড. শেখ মহ. রেজাউল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো।

আরও বলা হয়েছে, প্রশাসক হিসেবে রেজাউল ইসলাম কোম্পানি হতে মাসিক বেতন ছাড়াও সার্বক্ষণিক ব্যবহারের জন্য ১টি গাড়ি (ড্রাইভারসহ), জ্বালানি ও গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের প্রকৃত খরচ কোম্পানি বহন করবে।

তাছাড়া তিনি সর্বমোট বেতনের ৬০% হারে দুটি উৎসব ভাতা, মাসিক মোবাইল বিল ও কোম্পানির প্রয়োজনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে টিএ/ডিএ বিল প্রাপ্ত হবেন। প্রশাসকের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদির উপর প্রদেয় আয়কর প্রশাসক নিজেই বহন করবেন। প্রশাসক বীমা আইন ২০১০ অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করবেন এবং সময় সময় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করবেন। প্রশাসক যে কোনো সময় বীমা ব্যবসায় পরিচালনার পদ্ধতি বা ব্যবস্থাপনা পরিচালনা কালে উদ্ভূত যে কোনো বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার জন্য
আবেদন করতে পারবেন। কোম্পানির ব্যাংক হিসাবসমূহ পরিচালনা প্রশাসক ও অন্য যে কোনো একজন কর্মকর্তার যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।

জানা গেছে, কোম্পানির সাবেক মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের নানা অনিয়ম, আর্থিক কেলেঙ্কারি, চেয়ারম্যানের পেইড আপ ক্যাপিটালের বিপরীতে ঋণ নেওয়াসহ নানা কারণে কোম্পানির বোর্ড সাসপেন্ড করে আইডিআরএ।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের দায়িত্ব পানল না করাসহ কয়েকটি বিষয়ে অফিস আদেশ জারি করে আইডিআরএ। তার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি আইডিআরএ’র অফিস আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং- ৩৪৪৭/২০২৪) দায়ের করেন। রিট পিটিশনটির শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ২০২৪ সালের ২১ মার্চ আইডিআরএ’র আদেশে ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করে। ওই স্থগিতাদেশ গত ১৩ মে স্থগিত করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এনায়েতুর রহিমের চেম্বার।
এতে স্বদেশ লাইফে শাহীন যুগের সমাপ্তি হয়।

তারও আগে গত ৩ এপ্রিল স্বদেশ ইসলামী লাইফে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনকে দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয় আইডিআরএ)।

কর্তৃপক্ষের পরিচালক (আইন) মোহা. আব্দুল মজিদ স্বাক্ষরিত এক পত্রে (স্মারক নং ৫৩.০৩.০০০০.০৭১.২৭.০০১.২২.১৩৯) ওই নিদের্শনা দেওয়া হয়। পত্রটি স্বদেশ ইসলামী লাইফের চেয়ারম্যানকেও পাঠানো হয়।

পত্রে বলা হয়, স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের চাকরির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৮ জুন উত্তীর্ণ হয়। ওই তারিখের পর ইখতিয়ার উদ্দির শাহিন কোম্পানির সিইও নন। কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার পদ একটি চুক্তি ভিত্তিক পদ, সেহেতু মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর উক্ত পদে দায়িত্ব পালন করার আর কোনো সুযোগ নেই।

পত্রে উল্লেখ করা হয়, কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনের পুনঃনিয়োগ অনুমোদনের জন্য স্বদেশ লইফ ইন্স্যুরেন্স কর্তৃপক্ষ বিগত ২০২৩ সালের ১০ মে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ বরাবর একটি আবেদন করে। শাহিনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে পলিসিহোল্ডারের প্রিমিয়াম জমাকরণের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ ও বেআইনি ভাবে ইনসেন্টিভ বোনাস গ্রহণের মাধ্যমে বীমা আইন লংঘন এবং বীমাকারী ও বীমা গ্রহীতার স্বার্থ পরিপন্থী কাজ করায় ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনের বিরুদ্ধে বীমা আইন ২০১০ এর ৫০ ধারার ১(খ) উপধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আইডিআরএ কর্তৃপক্ষ কতিপয় নিদের্শনা প্রদান করে।

নিদের্শনাগুলো হলো- মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীন স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং তিনি প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে স্বাদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারবেন না।

পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহীনের ঐদ্ধত্তপূর্ণ আচরণের কারণে তাকে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে পুনঃনিয়োগ প্রস্তাব না মঞ্জুর করা হলো।

স্বদেশ ইসলামী লাইফ আইডিআরএ কর্তৃপক্ষের ২০২৩ সালের ১৭ আগস্টের সিদ্ধান্তটি পুনঃবিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির পরিচালনা পষর্দের চেয়ারম্যান ২০২৩ সালের ২৪ আগস্ট নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে পুনরায় একটি আবেদন দাখিল করে। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর একটি রিভিউ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। রিভিউ শুনানি শেষে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনের নিয়োগ নবায়নের পুনর্বিবেচনার আবেদন আইডিআরএ পুনরায় না মঞ্জুর করে। একই সাথে ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে পলিসিহোল্ডারের জমাকৃত প্রিমিয়ামের টাকা এবং কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী হিসাবে বেআইনিভাবে নেয়া ইনসেন্টিভ বোনাস কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার নিদের্শনা প্রদান করা হয়।

আইডিআরএ’র নিদের্শনা অনুযায়ি ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিন ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর ২৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকা কোম্পানির ব্যাংক হিসাবে জমা দিয়ে ২০২৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি পত্র মারফৎ আইডিআরএকে অবহিত করে।

ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিন পরবর্তীতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইডিআরএ’র অফিস আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন (নং- ৩৪৪৭/২০২৪) দায়ের করেন। রিট পিটিশনটির শুনানি শেষে উচ্চ আদালত ২০২৪ সালের ২১ মার্চ আইডিআরএ’র আদেশে ছয় মাসের জন্য স্থগিতাদেশ প্রদান করে।

আইডিআরএ’র পত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, মহামান্য হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষের স্থগিতাদেশ প্রদানের আগেই স্বদেশ ইসলামী লাইফে মুখ্য নিবার্হী পদে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনের চাকরির মেয়াদ ২০২৩ সালের ৮ জুন শেষ হয়ে যাওয়ার পর স্বদেশ লাইফ কর্তৃপক্ষ কোম্পানির ৪৪ তম বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ি মো. জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে মুখ্য নিবার্হী কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) পদে নিয়োগ দেয়। ফলে আইডিআরএ’র আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করার পরও মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব প্রদান ও তার দায়িত্ব পালন আইনসঙ্গত নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে কোম্পানির মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে মো. ইখতিয়ার উদ্দিন শাহিনকে দায়িত্ব পালন করা থেকে বিরত বিরত রাখার জন্য স্বদেশ ইসলামী লাইফ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা প্রদান করা হলো।

চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পেইডআপ ক্যাপিটালের বিপরীতে ১৪ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার অভিযোগে স্বদেশ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানসহ ১২ পরিচালককে অপসারণ করে (আইডিআরএ)।