সিরাজগঞ্জে সরিষার হলুদ ফুলে সেজে উঠেছে কৃষকের জমি

আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জঃ সিরাজগঞ্জের স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর গ্রামাঞ্চলের কৃষকদের সরিষা ফুলের আবাদ করতে ব্যাপকভাবে মনোযাগী হচ্ছে। প্রতিবছর ঘুরে-ফিরে শীত আসে।দেশের শীত সঙ্গে নিয়ে আসে হরেক রকমের ঋতুবাহারি ফুল, টক- মিষ্টি কুল,সজিনাডাঁটা, নানান শাকসবজি, হাওর, খালবিলের মাছ,পিঠাপুলি, নবান্নের ধান, খেজুরের রস।সিরাজগঞ্জের কৃষক ভাইয়েরা রবি মৌসুমে অর্থাৎ মধ্যকার্তিক থেকে অগ্রহায়ণ মাসের প্রথম সপ্তাহ (মধ্য নভেম্বর) পর্যন্ত সরিষার বীজ বপন করে থাকেন। শীতকালে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারী মাসে তাই গ্রামের মাঠে মাঠে হলুদের সমারোহ দেখতে পাওয়া যায়। আমাদের সিরাজগঞ্জ জেলায় কমবেশি সরিষার চাষ হলেও সাতিয়ানতলি, বেলুটিয়ার চর, কাজিপুর, কামারখন্দ,রায়গঞ্জ, সলঙ্গা, তাড়াশ, পরিমিত পরিমাণের আবাদ হয়ে থাকে। আমাদের এই জেলায় সরিষা দিয়ে ভোজ্য তেল তৈরি করা হয়।বিভিন্ন জেলার মানুষ ঐতিহ্যগত ঘানির খাঁটি সরিষার তেল পছন্দ করে শীত এলে সকালের গোসলের পর গায়ে মেখে গরম পড়লে আরামের স্বাদ পাওয়া যায়।ছোটবেলায় মায়ের কাছে ছুটে দৌড়ে আসলেই গোসল করিয়ে ঐ সরিষার তেল গাঁয়ে মাখিয়ে দিত। বিভিন্ন জেলায় সরিষা ক্ষেতে কৃত্রিমভাবে মৌমাছির চাক বানিয়ে মধু আহরণ করা হয়। যা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক উপায়ে মৌমাছির চাষ করতে পারলে লাখো-কোটি টাকার মধু বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা সম্ভব বলে মনে হয়।আমাদের দেশে প্রধানত সরিষা থেকে ভোজ্য তেল উৎপাদন করা হয়। দেশে ভোজ্য তেলের মধ্যে সয়াবিন তেল প্রথম হলেও সরিষার তেলের স্থান দ্বিতীয়। তবে তেলের জন্য ফসল হিসেবে আমাদের দেশে সরিষার চাষই হচ্ছে প্রধান। বর্তমানে এই জেলায় সরিষার তেলের ব্যবহার বহুলাংশে কমে গেছে। আমরা সয়াবিন তেলে অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। কিন্তু তাই বলে পোড়া শুকনো মরিচের সঙ্গে ঝাঁজওয়ালা খাঁটি সরিষার তেলের সংমিশ্রণের আলুভর্তা পছন্দ করবে না, এমন বাঙালি কোথাও পাওয়া যাবে বলে মুশকিল। কিন্তু বিভিন্ন সরকারি চাকরিজীবী কর্মকর্তারা ডাল ও আলু ভর্তার সাথে সরিষা তেল ছাড়া চলে না তদের একটি দিন।