শেরপুরে লাইসেন্স বিহীন চলছে এলপিজি গ্যাসের ব্যবসা, বাড়ছে ঝুকি

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

তারিকুল ইসলাম, শেরপুর প্রতিনিধি : শেরপুর জেলার সদরসহ পাঁচ উপজেলার হাটবাজার ও গ্রামগঞ্জে অন্তত সহস্রাধিক দোকান পাটে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার ভর্তি লাইসেন্স বিহীন গ্যাস। বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্স বিহীন এবং ফায়ার সার্ভিসের অনুমোদনের কাগজপত্র ছাড়াই যত্রঅত্র অবৈধভাবে বিক্রি হচ্ছে সিলিন্ডার গ্যাস। এসব অবৈধ সিলিন্ডার গ্যাসের দোকানে যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের ঘটনা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কোন দৃশ্যমান প্রদক্ষেপ না নেয়ায় জেলায় ব্যাঙের ছাতার মত দিনদিন গজিয়ে উঠছে অবৈধ সিলিন্ডার গ্যাসের দোকান পাট।

শেরপুর জেলা সদরসহ পাঁচ উপজেলায় প্রত্যন্ত অঞ্চল সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন বাজারে, মার্কেটের সামনে, হার্ডওয়্যার দোকানে, সড়কের উপর, দোকানের সামনে এমনকি খোলা আকাশের নিচে সিলিন্ডার গ্যাস রেখে বিক্রি করা হচ্ছে। শুধু শহর নয়; গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ছোট-খাটো দোকানঘরেও চলছে এর জমজমাট বাণিজ্য। গ্রামের চা-দোকান, মুদি দোকান, মনোহরী দোকান, ফার্মেসি, স্টেশনারী দোকান এমনকি মোবাইল রিচার্জের দোকানগুলোতেও চলছে এ দাহ্য পদার্থের ব্যবসা।

সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসার বিষয়টি ক্রেতাদের কাছে জানান দিতে দোকানের সামনে খোলা আকাশের নিচে সম্পূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখে প্রদর্শনী করেন এসব দোকানিরা।

প্রতিদিন শহরের বিভিন্ন ব্যস্ততম সড়কে উম্মুক্ত স্থানে সিলিন্ডার গ্যাস রেখে বিক্রি-মজুদ ও লোড-আনলোডের কাজ এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। এতে করে যেকোনো সময় ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির জন্য বিস্ফোরক দ্রব্যের লাইসেন্স গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার বিধান থাকলেও ব্যবসায়ীরা এসব নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। অনেকেই জানেন না এ ধরনের ব্যবসা করতে হলে ব্যবসায়ীদেরকে কী ধরনের বিধি মানতে হবে।

নিয়ম মোতাবেক একটি সিলিন্ডার ৫ বছরের অধিক সময় ব্যবহার না করতে বলা হলেও শেরপুর জেলা সদরসহ পাঁচ উপজেলার হাট-বাজারে ১০ থেকে ১৫ বছর আগের সিলিন্ডারও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী পরিত্যাক্ত সিলিন্ডার মেরামত ও রং করে নতুন ভাবে বাজারজাত করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন মানুষ।

শেরপুর সদর উপজেলার সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রেতারা বলেন, লাইসেন্স করতে গেলে বিভিন্ন কাগজপত্র নিয়ে জটিলতা তৈরি করেন কর্মকর্তারা। এটা নেই, সেটা নেই বলে হয়রানি করেন। এরপর নকশা তৈরির জন্য খরচ করতে হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা। এসব কারণে বাধ্য হয়ে তারা লাইসেন্স না করেই ব্যবসা করছে।

শেরপুর জেলার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক আবুল বাশার এই আমার দেশকে জানান, অনুমোদনবিহীন প্রতিষ্ঠান সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রি করতে পারে না। ফায়ার সার্ভিসের ওয়ার হাউজ বিভাগ থেকে অনুমতি নিয়ে এটি বিক্রি করতে হয়। কিছু প্রাইভেট কোম্পানি কোনো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী সিলিন্ডার বাজারজাত করে আসছে। অগ্নিকান্ডের ঝুঁকি কমাতে অবশ্যই এর বিক্রয়-সংরক্ষণ ও ব্যবহারকারীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি বলে তিনি মনে করেন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারি পরিচালক আবুল বাশার আরো বলেন, অসাধু সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রয়কারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃক পক্ষের সাথে আলোচনা করবেন বলে তিনি এমনটাই জানিয়েছেন।

সিলিন্ডার ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহারবিধির ব্যপারে জানতে চাইলে শেরপুর সরকারী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান শিব শংকর কারুয়া বলেন, সভ্যতার গোড়া পত্তন হয়েছে আগুনে আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সচেতনতার অভাবে এই আগুনেই জ্বলে পুড়ে নিস্ব হতে হচ্ছে আমাদে কে। তিনি বলেন সিলিন্ডারের ব্যবহার এখন প্রত্যেন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তার করেছে কিন্তু এর ব্যবহার বিধি সম্পর্কে মানুষ এখন অবগত নয় যার দরুন ঘটঠে বড় বড় অগ্নিকান্ডের ঘটনা।