লন্ড ভণ্ড কয়রার মানচিত্র

নিতিশ সানা, কয়রা(খুলনা) ঃ দ্বিগুণ শক্তি সঞ্চয় করে উপকূলীয় খুলনার কয়রা উপজেলায় ধেয়ে আসে বুলবুল। মোংলা সুমুদ্র বন্দকে ১০নং মহা বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়। সারাদিন মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া থাকলেও মধ্য রাতে জোয়ারের সাথে বাড়তে থাকে বুলবুলের প্রভাব। নদীতে ভাটির টানে শুরু হতে থাকে প্রলয়কারী ধ্বংস স্থস্ভ। পালটাতে থাকে কয়রার মানচিত্র। শনিবার সকাল থেকে উপজেলা দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটি, উপজেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন সেচ্ছাসেবি সংগঠন মিলে মাইকিং করে ঘুর্নিঝড় বুলবুল সম্পর্কে সতর্কতা করতে থাকে। তবে গভীর রাতে নদীতে ভাটির টানে শুরু হয় শুরু হয় ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের হানা। শুরু হতে থাকে উপজেলায় ধ্বংস স্থস্ভ।

উপজেলা দূর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির তথ্য অনুসারে, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের প্রায় দেড় হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তর উপর দিয়ে উপড়ে পড়েছে অসংখ্য গাছ পালা। আহত হয়েছে ২৩ জন। ৮টি প্রাথমিক ৪টি মাধ্যমিক ও ১টি মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষয় ক্ষতি হয়। এ ছাড়া ৭০/৮০টি বিদ্যুৎ পোল উপড়ে গেছে, ৭০০/৮০০বৈদ্যুতিক মিটার নষ্ট, ২০০ বেশি জায়গায় তার ছিড়ে যাওয়ায় উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছন্ন রয়েছে।পানিতে তলিয়ে আছে উপজেলার মৎস ঘের। তাছাড়া উপজেলার বেদকাশি ইউনিয়নের কাছারি বাড়ি দেড়শত বছরের ঐতিহ্য বাহি বটগাছ টি উপড়ে দিয়েছে প্রলয় কারি বুলবুল।
আশ্রয় কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠান প্রধানের গড়তামির কারনে ফিরে জায় আশ্রয় কেন্দ্রে থেকে অনেকে এমন অভিযোগ মহারাজপুর ইউনিয়নে। মঠবাড়ি শান্তি ময়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪টা শৌচাগারের তিনটা তালা দেওয়া। প্রধান শিক্ষক মোঃ এসকেন্দার আলী মুঠো ফোনে জানান স্কুলে উন্নয়নের কোন অর্থ না পাওয়াই। দেড় বছর ধরে তার শৌচাগার ব্যাবহারের অযোগ্য হওয়ায় এ ভাবে তালা দিয়ে রাখা হয়েছে। মেরামতের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি কি আমার বেতনের টাকা দিয়ে শৌচাগার মেরামতের কাজ করবো। মঠবাড়ি সেরাজিয়া বহু মুখি উচ্চ বিদ্যালয়ে যেয়ে দেখা যায় কয়েক শত এলাকা বাসি আশ্রয় নিলেও নাই কোন আলোর ব্যাবস্থা, শৌচাগার তালা বদ্ধ চরম ভোগান্তিতে আশ্রয় নেওয়া এখান কার সাধারণ জনগন। স্কুলে প্রধান শিক্ষক নিখিলেশ্বর রায়ের কাছে মুঠো ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কালিকাপুর চৌকুনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস রুম খোলা থাকলেও নাই কোন আলোর ব্যাবস্থা। শৌচাগার গুলোও তালা দেওয়া। এসব জায়গায় আশ্রয় নেওয়া জন জন সাধারনের কাছে তাদের সমস্যার কথা জানতে চাইলে তারা বলেন এতো লোকের ভিতর কোন আলোর ব্যাবস্থা না থাকায় নারী পুরুষের একই জায়গায় আশ্রয় নেওয়া চরম হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে। তাছাড়া শৌচাগার তালা বদ্ধ থাকায় আশ্রয় কেন্দ্রের বাইরে যেয়ে মল-মূত্র ত্যাগ করতে হচ্ছে।