রোজ গার্ডেনের আদলে বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

কলকাতা প্রতিনিধি : কলকাতার ঐতিহ্যবাহী আন্তর্জাতিক বইমেলা আগামী বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে। চলবে ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। এবার বাংলাদেশের প্যাভিলিয়ন হচ্ছে ঢাকার রোজ গার্ডেনের আদলে। সাড়ে তিন হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে তৈরি হচ্ছে এই প্যাভিলিয়ন। এতে বাংলাদেশে ৪১টি প্রকাশনা সংস্থা থাকবে। গত বছর বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন নির্মিত হয়েছিল ঢাকার আহসান মঞ্জিলের আদলে।

বইমেলায় বাংলাদেশ দিবস পালিত হবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি। এই দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী। আসবেন দেশের বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা আলোচনাসভায় যোগ দেবেন। বইমেলার আয়োজক কলকাতার পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ড। এই বইমেলায় ২ ফেব্রুয়ারি একটি অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা যোগ দেবেন।

বইমেলায় থিম কান্ট্রি মধ্য আমেরিকার অন্যতম দেশ গুয়াতেমালা। এই বইমেলায় গুয়াতেমালার কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিকসহ বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন। এবারও বইমেলা বসবে কলকাতার সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে। গত বছরও বইমেলা বসেছিল এই পার্কে। কলকাতার মেলার জন্য নির্ধারিত মিলনমেলা ময়দানে সংস্কারকাজ চলছে। এবার সেখানে বইমেলা আয়োজন করা যায়নি। এবারের বইমেলা ৪৩ বছরে পা দিচ্ছে।

বইমেলা উদ্বোধন করবেন গুয়াতেমালার প্রখ্যাত সাহিত্যিক অধ্যাপক ইউডা মোরেস। অতিথি হিসেবে থাকবেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং গুয়াতেমালার ভারতে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত জিয়োবান্নি কাসতিয়ো।

প্রতিবারের মতো বইমেলায় যোগ দেবেন বাংলাদেশের প্রকাশকেরা। আসছে বাংলাদেশের ৪১টি প্রকাশনা সংস্থা। বইমেলায় আরও যোগ দেবেন যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ভিয়েতনাম, জাপান, চীন, ইরান, কোস্টারিকা, স্পেন, স্কটল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনাসহ বিশ্বের ২১টি দেশের প্রকাশকেরা। যোগ দেবেন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের প্রকাশকেরাও।

এ বছর ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর জন্মসার্ধশতবর্ষ। সেই দিনকে সামনে রেখে বইমেলায় নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এবার বইমেলায় সব মিলিয়ে ৮০০ স্টল হচ্ছে। এর মধ্যে ২০০টি লিটল ম্যাগাজিনের স্টল। বইমেলায় প্রবেশের জন্য তৈরি করা হচ্ছে নয়টি গেট। থাকছে শান্তিনিকেতনের কলা ভবনের আদলে তৈরি গেটও। আরও থাকছে ভেনেজুয়েলার ঐতিহ্যের স্মারকের গেট।

বইমেলায় সেরা চার বইক্রেতাকে দেওয়া হবে বুকশেলফসহ এক লাখ রুপি। এটি দিয়ে তাঁরা বইয়ের গ্রন্থাগার করবেন। এ ছাড়া প্রতিদিন লটারির মাধ্যমে সেরা বইক্রেতাকে ১০ হাজার রুপি পুরস্কার দেওয়া হবে। ১০ জন এই পুরস্কার পাবেন। বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা পাঁচটি বই প্রকাশিত হবে।

কলকাতা বইমেলা শুরু ১৯৭৬ সালে। এই বইমেলা এর আগে কলকাতা ময়দানে অনুষ্ঠিত হতো। ২০০৯ সালে জায়গা বদল করে সায়েন্স সিটির সামনে ময়দানে বইমেলা স্থানান্তর করা হয়। সেখানে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। তাই বইমেলার জায়গা বদল করে সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে আনা হয়েছে।

কলকাতা বইমেলা অন্যতম বড় বইমেলা। সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্কে এই বইমেলা ১৩ একর জায়গাজুড়ে হচ্ছে।