মালয়েশিয়ায় গ্রেফতার এড়ানোর জন্য ‘অবৈধ’ শ্রমিকদের কি করা উচিত ?

কুয়ালামলামপুর, মালয়েশিয়া থেকে জহুরুল রিপন
১. অবশ্যই বৈধ কাগজ নিয়ে বের হবে। পাসপোর্ট ভিসা না থাকলে ফটোকপিতেই তুমি ছাড় পাবে না। ভোগান্তি হতে পারে।
২. কোন ভাবেই বাসে ট্যাক্সিতে কোথাও যাওয়া নিরাপদ নয়।
৩. কোথাও জড়ো হওয়া বা আড্ডা দেয়া যাবে না। এমনকি চায়ের দোকানেও।
৪. মনে রাখতে হবে- যে এলাকায় বিদেশী শ্রমিকের আনাগোনা বেশী সেখানেই অভিযান হয় বেশী।
৫. যে এলাকায় তুমি অবস্থান করছো সেখানে বেশী বিদেশী থাকলে নিরাপদ স্থানে চলে যাও। ওরা বাসাবাড়িতেও হানা দিতে পারে।
৬. পকেটে বেশী টাকা পয়সা নিয়ে বের হবে না। তবে সবসময় শরীরের গোপন স্থানে ২/১ হাজার রিঙ্গিত রাখতে পারো। কারনটা নীচে বলছি।
৭. জরুরী কোথাও যাবার প্রয়োজন হলে Grab, Mycar, Ezcar জাতীয় এপস ভিত্তিক ট্যাক্সি ব্যবহার করো এবং পিছনের সিটে বসো। ভালো পোষাক আষাক পড়ে বের হও।
৮. ঈশ্বর না করুন, ধরা পড়লে তোমাকে সাজা ভোগ শেষে দেশে পাঠানো হবে। কাজেই বাসস্থানে টাকা পয়সা, দামী ফোন, স্বর্নালংকার, ল্যাপটপসহ কোন দামী জিনিষ রাখবে না।
৯. মালয়েশিয়ার ব্যাংকে নিজের পূর্ব একাউন্টে বা কারো একাউন্টে কোন টাকাই রাখবে না। কারন, ধরা পড়লে সেগুলো আর ফেরত পাবার সম্ভাবনা থাকে না। তবে অতি বিশ্বস্ত বন্ধু বা আত্মীয়ের কাছে রাখবে। যাতে বিপদের মুহুর্তে ভবিষ্যতে কাজে লাগে। সে প্রতারনা করলে কিন্তু টাকাও যাবে, ভোগান্তিও বাড়বে। সেখানে ২/৩ হাজার পারলে রাখো।
১০. তুমি কর্মরত কোম্পানীর নামে পারমিট করতে গিয়ে কাগজ পত্র না পেলে ইমিগ্রেশনকে সব খুলে বলো।
১১. ভাষা জানা খুবই দরকার। ভাষা না বুঝলে সম্ভব হলে পাশের কোন বাঙ্গালীর সাহায্য নিতে পারো।
১২. বিপদে পড়লে উপস্থিত বুদ্ধি খুবই জরুরী। দৌড় না দিয়ে বুদ্ধি করে দেখো ভীড়ের মধ্য থেকে কেটে পড়তে পারো কিনা।
১৩. বিপদে ঝুঁকিপূর্ন কোন চাকরী করো না। প্রয়োজনে এক মাস বেকার থাকো। রেষ্টুরেন্টের কাজই তোমার জন্য বেশী ঝুঁকিপূর্ন। অন্য কোম্পানীর নামে ভিসা নিয়ে কাজ করলেও জেলে যেতে পারো।
১৪. ইমিগ্রেশন ছাড়া পুলিশে ধরলে তাড়াতাড়ি স্যাটেল করে নাও।

আটক হবার পরে

১. সাথে সাথে ফোন, এসএমএস বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তোমার বাড়ীতে বা বন্ধুদের আটকের সংবাদটি জানিয়ে দাও।
২. কোন বৈধ কাগজ পত্র ছাড়া ইমিগ্রেশনে আটক হলে মুক্তির কোন পথ নেই। এজন্য বাইরে কারো সাথে কোন লেনদেনের চেষ্টা করে টাকা নষ্ট করতে বারন করে দিবে। একশ্রেনীর দালাল ছাড়িয়ে দেবার নাম করে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
তবে ধরা পড়ার সাথে সাথে ইমিগ্রেশনে কেউ যোগাযোগ করলে এবং তোমার সাথে পাসপোর্ট থাকলে ওরা সদয় হলে টিকেট কেটে তোমাকে দেশে পাঠানোর সুযোগ দিতেও পারে। তাহলে তোমাকে সাজা ভোগ করতে হবে না। তোমার সাথে (উপরে বলেছিলাম) ২/১ হাজার রিঙ্গিত থাকলে ইমিগ্রেশনকে বাড়ী ফিরে যাবার কথা বলবে। তবে সেটা ধরা পড়লে ইমিগ্রেশনে নাম ধাম লেখার সময় বলবে। সাবধান, কোন শয়তানের হাতে যেন টাকা না যায়।
৩. তোমাকে লকাপে নেবার আগেই তোমার ফোন টাকা পয়সা জমা নিবে। তার আগে পর্যন্ত সম্ভব হলে ফোনে সবার সাথে শেষ কথা বলে নাও। মনে রাখবে কমপক্ষে ২/৩ মাসের আগে তুমি আর দেশে যেতে পারছো না। হতে পারে সেটা ৬ মাসও।
৪. সাজা শেষ হলেই কিন্তু তুমি দেশে যেতে পারছো না। পাসপোর্ট না থাকলে তোমার ভোগান্তি বাড়বে। হাইকমিশন থেকে তোমার ট্রাভেল পাস ইস্যু হলেই তুমি টিকেট কেটে দেশে যাবার সুযোগ পাবে। এ জন্য আরো অনেকদিন তোমাকে আটক থাকতে হবে।
৫. জেলে বা ডিটেনশন ক্যাম্পে কারো সাথে সংঘাতে জড়াবে না। সব নিয়ম কানুন মেনে চলবে।
৬. নিয়মিত নামাজ পড়বে, প্রার্থনা করবে। স্রষ্টার কাছে মুক্তি চাইবে।
৭. তোমার বোকামী ও নিজের দোষেই তুমি আজ এখানে। কাউকে দায়ী করে লাভ নেই। প্রবাস মানেই সোনার হরিন নয়। প্রবাস মানে এক অভিশাপ। ভাল অবস্থানে থাকলেও না থাকলেও। জেলে চিন্তা করার অনেক সুযোগ পাবে। নেতিবাচক চিন্তা না করে ইতিবাচক চিন্তা করবে। ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। নিজের জন্মভূমিতেই মাথা উঁচু করে বাঁচার শপথ নিবে। মনকে শক্ত করে রুখে দাঁড়াব। মানুষ সবই পারে।
৭. ঘুম, খাওয়া দাওয়ায় কষ্ট হবে। সহ্য করতেই হবে। তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। রাতের খাবার কিন্তু সন্ধ্যা ৬/৭ টার মধ্যেই শেষ।