মাগুরায় প্রতিপক্ষের হাতুড়ি পেটায় আ.লীগ নেতা আহত

মাগুরা প্রতিনিধি : মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় আওয়ামী লীগের এক নেতা আহত হয়েছেন। হামলার শিকার ওই ব্যক্তির নাম গোলাম মোর্শেদ ওরফে টুকু। সে গয়েশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক।

হামলার শিকার টুকুর অভিযোগ, মাগুরা-১ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাকিব আল হাসানের পক্ষে মিছিল করায় প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর উপর হাতুড়ি, রোড, চায়নিজ কুডাল দিয়ে হামলা করেছেন। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দাবি করেছেন, সাকিবের মিছিল নয়, সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখরের ছবিযুক্ত টি-শার্ট পরায় আহত ব্যক্তি কটাক্ষ করায় বিরোধ তৈরি হয়।

তাঁর স্বজনেরা জানান, গতকাল রোববার বিকেল চারটার দিকে উপজেলার লাঙ্গলবাঁধ বাজারে প্রতিপক্ষের লোকজন গোলাম মোর্শেদকে হাতুড়িপেটা করেন। এরপর তাঁকে উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভুক্তভোগী গোলাম মোর্শেদ বলেন, বিকেলে লাঙ্গলবাঁধ বাজারে কৃষি ব্যাংক থেকে বেরিয়ে মোটরসাইকেলে গরুর হাটের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় হালিম চেয়ারম্যানের (গয়েশপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদুল হালিম মোল্যা) লোকজন জিনারুল মিয়া, শিমুল, সোহেলসহ ৮-১০ জন অতর্কিতে হাতুড়ি-চায়নিজ কুড়াল দিয়ে হামলা করে পেটানো শুরু করেন। এ সময় তিনি পড়ে গেলে তাঁদের কাছে মারধরের কারণ জানতে চাইলে তাঁরা বলেন, ‘তুই সাকিবের মিছিল করিস। তুই হালিম চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে রাজনীতি করিস। তোর রাজনীতি শিখেই দিচ্ছি।’

গোলাম মোর্শেদ দাবি করেন, সাকিব মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি কয়েকটি গ্রামের লোকজন নিয়ে মিছিল করেছিলেন। এ জন্য চেয়ারম্যান তাঁকে আগেই হুমকি দিয়েছিলেন। গতকাল তিনি বাজারে উপস্থিত থেকে লোকজন দিয়ে হামলা করেন।

এ বিষয়ে গয়েশপুরইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মন্ডল জানান, দীর্ঘদিন যাবত টুকু আমার সাথে দল করায় তার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে গতকাল (রবিবার) বিকালে হালিম চেয়ারম্যান নিজেই নেতৃত্ব দিয়ে তার অনুসারী জেনারেল, শিমূলসহ ৮-১০ জন তাকে হাতুড়ি পেটা করে ফেলে রেখে যায়। এঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানায়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গয়েশপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল হালিম মোল্যা। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী অসুস্থ। তাঁকে নিয়ে আমি এই মুহূর্তে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে আছি। মারামারি হয়েছে আমি শুনেছি। আমার লোকজনও থাকতে পারে। তবে সেটা সাকিবের মিছিল করা ইস্যুতে কোনোভাবেই নয়। কারণ, সাকিবকে অভ্যর্থনা জানাতে আমিও ৩০০ মোটরসাইকেল নিয়ে গিয়েছিলাম। এটাকে ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে।’

শ্রীপুর থানার ওসি কাঞ্চন কুমার রায় প্রথম আলোকে বলেন, ‘মারামারির ঘটনা শুনেছি। তবে ঠিক কী কারণে মারামারি হয়েছে, এখনো বিস্তারিত জানতে পারিনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’