মহিলা এমপি: ১২৫ জনের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহিলা এমপিদের তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানাচ্ছে যে, মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্য থেকে ১০০ থেকে ১২৫ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা এখন প্রধানমন্ত্রীর হাতে। এই তালিকা থেকেই একাদশ জাতীয় সংসদের মহিলা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন বলে আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো জানিয়েছে। আওয়ামী লীগের এসব সূত্র বলে, প্রায় ১ হাজারের বেশিজন মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন এবং মনোনয়ন চেয়ে আবেদন জমা দিয়েছিলেন। এদেরকে নানাভাবে যাচাই বাছাই করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সূত্রগুলো বলছে, মোটামুটি ৫ টি প্রক্রিয়ায় মনোনয়ন প্রত্যাশিদের যাচাই বাছাই করা হয়েছে। এগুলো হলো: গোয়েন্দা সংস্থাদের দিয়ে তাঁদের সম্পর্কে রিপোর্ট নেওয়া হয়েছিল। তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা এবং সাংগঠনিক অবস্থা নিয়ে দল থেকে প্রতিবেদন নেওয়া হয়েছিল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের অবদান বিবেচনা করা হয়েছিল।তাঁরা যে নির্বাচনী এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করবেন। সেই এলাকায় তাদের অবস্থান এবং জনপ্রিয়তা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে রাজনীতিতে তাঁদের অবদানের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল।

এসব প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের যে সংক্ষিপ্ত মহিলা মনোনয়নের চুড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৮ এবং ৯ তারিখে মনোনয়ন প্রত্যাশিদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবং সংসদীয় বোর্ডের সদস্যরা।

আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, এবার মনোনয়নে তরুনদের জয়জয়কার হবে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আওয়ামী লীগ যে ৪৩ জনকে মনোনয়ন দিবে তাদের মধ্যে ২০ থেকে ২৫ জন তরুণ এবং প্রথমবারের মত এমপি হিসেবে আভির্ভূত হতে পারেন। একুশে আগষ্টের গ্রেনেড হামলাসহ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে যারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাদের মধ্যে ৮ থেকে ১০ জন এবার সংসদে যেতে পারেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত স্বনামখ্যাত ব্যাক্তিদের মধ্য থেকে দুই থেকে তিনজনের সংসদে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় নির্বাচনে আগ্রহী ছিলেন মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ব্যাপারে উৎসাহী ছিলেন। মনোনয়ন দেওয়া হলে হয়তো জিততেও পারতেন। এরকম এলাকায় জনপ্রিয়দের মধ্যে থেকে দুই থেকে তিনজনকে এবার মহিলা কোটায় সংসদে আনা হতে পারে বলে জানা গেছে। প্রবীন আওয়ামী লীগ সদস্য, যারা জন্ম থেকেই এই দলের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং জীবন সায়ান্হে উপনীত হয়েছেন। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোন এমপি, মন্ত্রী বা কোন সুযোগ সুবিধা আওয়ামী লীগ থেকে গ্রহণ করেননি। বরাবরই তারা আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে প্রমানিত। তাদের থেকে চার পাঁচজন এবার মহিলা কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন বলে জানা গেছে। এই সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রধানমন্ত্রী বিচার বিশ্লেষন করবেন এবং সামগ্রিক বিষয়গুলো বিবেচনা করে তালিকা চুড়ান্ত করবেন। তবে আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, যে সমস্ত নারী সদস্য দুবার মহিলা কোটায় এমপি হয়েছেন। তাদেরকে শুরুতেই বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগ করেননি বা ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুক্ত হয়েছেন, তাদেরকেও এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য যে আগামী ১১ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষদিন। ১২ ফেব্রুয়ারি মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই হবে, সেদিনই আসলে কারা চুড়ান্ত হচ্ছেন তা নির্ধারিত হবে।