ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিয়োগ পরীক্ষায় অসৎ উপায়ে উত্তীর্ণের রমরমা চুক্তি বাণিজ্য

এফ,বি,রুবেল, ভোলা প্রতিনিধি :ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অধীনে,বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১১ তম গ্রেড থেকে শুরু করে ২০ তম গ্রেড পর্যন্ত, ৫ ধরনের মোট ৭০ টি শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে প্রিন্ট মিডিয়ায় গত ১৩ ফেব্রুয়ারি জনবল নিয়োগের দরখাস্ত আহ্বান করা হয়,আবেদনের সময়সীমা ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে ০৫ মার্চ ২০২৪ ইং পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়, এরই মধ্যে চাকরি প্রত্যাশী অনেকে নিজ জেলার এই সুযোগ হাতছাড়া না করার লক্ষ্যে, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের দ্বারে দ্বারে দৌড়ঝাপ শুরু করে দিয়েছে ইন্টারভিউ কার্ড হাতে পাওয়ার আগেই, নিজ মেধার যোগ্যতায় লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে পরবর্তীতে বিবেচনা করা হবে এমনটাই জানিয়েছেন নেতাদের দ্বারস্থ হওয়া চাকরি প্রত্যাশীরা, ফলে যেকোনো উপায়ে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার লক্ষে দালালদের সাথে ভিন্ন ভিন্ন চুক্তি ও কৌশল অবলম্বনের ফন্দি করছেন তারা। যেমন ইলেকট্রনিক ডিভাইস, স্পাই ব্লুটুথ, ফোন মেসেজ, কেন্দ্র কন্টাক্ট, প্রক্সি মিডিয়া (একজনের পরীক্ষা অন্যজনকে দিয়ে সম্পন্ন করা) ইত্যাদি, দালালরা ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শুধু লিখিত (এম,সি,কিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য নিয়ে থাকেন বলে জানা গেছে, আবার কেউ কেউ লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সহ নিয়োগ পত্র পাইয়ে দেওয়ার (ফুল প্যাকেজ) চুক্তি করে থাকেন, এই চুক্তির বিষয়টি চেক অথবা স্ট্যাম্পের মাধ্যমে সম্পন্ন করেন, তবে অসৎ উপায় অবলম্বনে ইচ্ছুক প্রার্থীরা বিশেষ কারণ বশত দালালদের নাম প্রকাশে অনাগ্রহ দেখিয়েছেন।

উল্লেখ্য গত ৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ভোলায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অবৈধ পন্থায় লিখিত (এম,সি,কিউ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণের চেষ্টা করা বেশ কয়েকজন প্রার্থীকে ডিভাইস, স্পাই ব্লুটুথ এম,সি,কিউ প্রশ্নের উত্তর সহকারে মোবাইল ফোন জব্দ করে বহিষ্কার ও আইনগত ব্যবস্থাও গ্রহণ করেছে প্রশাসন, এমনকি কয়েকজন শিক্ষকের সহযোগিতার সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগও পাওয়া গেছে, বিগত দিনে ভোলার স্থানীয় নিয়োগ পরিক্ষায় এধরণের অবৈধ পন্থা অবলম্বনের অনেক নজিরও আছে, প্রশাসন অবৈধ পন্থা অবলম্বনকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় দালাল চক্র, এমতাবস্থায় ভোলা জেলার প্রকৃত মেধাবী ও চাকরির নিয়োগে যোগ্যতা সম্পন্ন প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ও নিয়োগ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় আছেন! তবে এম,সি,কিউ, (নৈবিত্তিক) ব্যতীত লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল নির্ধারণের ব্যবস্থা গ্রহণ করলে, দালাল চক্রের মাধ্যমে অসৎ উপায় অবলম্বন করাটা অনেকটাই কঠিন হবে বলে মনে করছেন অধিকাংশ চাকরি প্রত্যাশীরা।