ভালবাসা দিবসে স্বামীর হাতে প্রাণ গেল নববধূর

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

শেরপুর থেকে জিএইচ হান্নান : শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলাতে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় ভালবাসা দিবসে স্বামীর হাতে প্রাণ গেল তাসলিমা (১৯) নামে এক নববধূর। ঘটনাটি ঘটে ভালবাসা দিবসের ভোর রাতে পৌর শহরের চরপাড়া মহল্লায়।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মাত্র তিনমাস আগে পরিবারের সম্মতিতে খালভাংগা গ্রামের মোফাজ্জল হোসেন এর মেয়ে তাসলিমার বিয়ে হয় পৌরশহরের নামা ছিটপাড়া গ্রামের সফর উদ্দিনের ছেলে আনিসুরের সাথে। আনিসুর তার স্ত্রীকে নিয়ে চরপাড়া গ্রামে তার নানা হাবিল উদ্দিনের বাড়িতে থাকতেন। আনিসুর রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্য আনিসুর তাসলিমাকে মারধর করতেন। ১৫ দিন আগে আনিসু অটোরিকশা কিনতে তাসলিমাকে তার বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দেয়। তাসলিমা বাবা ‘স’ মিলের শ্রমিকের কাজ করেন। এতো টাকা দিতে পারবেন না বলে তসলিমা আনিসুরকে জানান। এতে আনিসুর ক্ষিপ্ত হয়ে তাসলিমাকে মারধর করে তসলিমাকে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। দুই দিন পরে খালি হাতে তাসলিমা স্বামীর বাড়িতে চলে আসেন। আনিসুর প্রতিরাতে নেশা করে বাড়িতে ফিরতেন। গত বুধবার রাতে তসলিমা ও আনিসুর রাতে তাদের ঘরে ঘুমাতে যান। হঠাৎ রাত তিনটার দিকে আনিসুর বাড়ির বাহির থেকে তার মামির কাছে ফোন করে তসলিমাকে দিতে বলেন। মামি ফোন নিয়ে দ্রুত তাসলিমার ঘরে যান। এসময় তাসলিমার ঘরের দরজা খোলা ছিলো ঘরে গিয়ে তাসলিমাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে প্রতিবেশিকে খবর দেন। রাত সাড়ে তিনটার দিকে আত্মীয় স্বজন ঘরে গিয়ে তসলিমার লাশ মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরিবারের অভিযোগ তাসলিমাকে শ্বাসরুদ্ধ হত্যা করা হয়েছে। ঘাতক স্বামী পালিয়ে যাওয়ার সময় তাসলিমার গলায় থাকা চেইন , কানের দুল ও নাকের ফুলটিও নিয়ে গেছে। পুলিশ খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থল থেকে তাসলিমার মরদেহ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে তসলিমার বাবা মোফাজ্জল হোসেন বাদী হয়ে নালিতাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার পর থেকে তসলিমার স্বামী আনিসুর রহমান ও মামা পলাতক রয়েছেন।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) আবুল খায়ের বলেন, খবর পেয়ে সকালে চরপাড়া মহল্লা থেকে তাছলিমার মরদেহ তার স্বামীর ঘরের মেঝে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তার গলায় জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। তার লাশ শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।