ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিলেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের শিরোপা জিতে লম্বা সফরের শুরুটা ছিল দারুণ। বিশ্বকাপের শুরুটাও ছিল বেশ ভালো। তবে শেষে আর লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি বাংলাদেশ। দেশে ফিরে ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় টুর্নামেন্টে দলের ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে নিলেন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা।

সেমি-ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে খেলা বাংলাদেশ টুর্নামেন্ট শেষ করে আট নম্বরে থেকে। তিনটিতে জিতে মাশরাফির দল, হারে পাঁচটিতে, পরিত্যক্ত হয় অন্য ম্যাচটি। রোববার ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে মাশরাফি জানান, প্রত্যাশা পূরণ করতে না পেরে পুরো দলই হতাশ।

“যে প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম সে জায়গা থেকে অবশ্যই হতাশ। পুরো দলই হতাশ। কিন্তু যদি পুরো বিশ্বকাপ দেখেন, কিছু জায়গায় ভাগ্য যদি আমাদের পক্ষে থাকতো আমরা হয়তো সেমি-ফাইনালে যেতে পারতাম। সব মিলিয়ে আমাদের খেলার ধরন ইতিবাচক ছিল।”

১১ ক্রিকেটার ফিরেছেন রোববার। দলের সঙ্গে আসেননি সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ ও লিটন দাস।

বিশ্বকাপে সাকিব ও মুশফিকুর রহিম ছাড়া আর কেউ সেভাবে ধারাবাহিক ছিলেন না। ব্যর্থতার জন্য বেশিরভাগ ক্রিকেটারের ধারাবাহিকতার অভাবকে দায় দিলেন অধিনায়ক।

“ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগ পর্যন্ত সেমি-ফাইনালের সম্ভাবনা বেঁচে ছিল। সাকিব এবং মুশফিক ছাড়া কেউই তেমন ধারাবাহিক ছিল না। ভাগ্যও আমাদের পক্ষে ছিল না। সাকিব অসাধারণ ক্রিকেট খেলেছে। মুস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, মুশফিক খুবই ভালো করেছে।”

“অধিনায়ক হিসেবে দলকে যখন ধারাবাহিক না করতে পারব তখন সমালোচনা আমাকে শুনতেই হবে এবং পুরো দলের দায়ভার নিতেই হবে। আমি অবশ্যই সেই দায়ভার নিচ্ছি।”

চলতি মাসের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় একটি তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলার কথা বাংলাদেশের। এই মুহূর্তে সেই সিরিজে খেলা না খেলা নিয়ে ভাবছেন না মাশরাফি। তার ভাবনাজুড়ে আছে তরুণ সতীর্থরা।

“তরুণ ক্রিকেটারদের সবসময় দোষারোপ করা হয়। আজকের তরুণরা যতটা ধারাবাহিক খেলেছে এবং অনেক চাপের মাঝেও যেমন খেলছে, আমরা যখন তরুণ ছিলাম সে সময় আমরা ততটা পারিনি। এক তরফা ওদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। ওরা অনেক চেষ্টা করেছে। আশা করি অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আজকের সাকিব, মুশফিক, তামিমদের মতো এরাও একদিন দলের হাল ধরবে।”

গত ১ মে দেশ ছেড়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। শুরুতে আয়ারল্যান্ডে স্বাগতিক ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলে তারা। সেই সিরিজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো ফাইনালে জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।