বিএনপিতে খালেদাপন্থীদের পদত্যাগের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক : কর্ণেল অলির নতুন মঞ্চ হতে না হতেই বিএনপিতে বেগম খালেদা জিয়াপন্থীদের দলত্যাগের হিড়িক পড়েছে। সারাদেশে দলের সদস্যরা যেন পদত্যাগ না করে। তাদের যেন দলে রাখা হয়, সেজন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। কিন্তু এসব সতর্কবার্তাকে থোরাই কেয়ার করে বিএনপিতে খালেদাপন্থী হিসেবে পরিচিত বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীরা গণহারে পদ্যতাগ করছেন। তবে তারা পদত্যাগের কোন সুষ্ঠু কারণ জানাচ্ছে না।

গত বুধ এবং বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ব্রাঞ্চনবাড়িয়া এবং কুমিল্লা থেকে বিএনপির শতাধিক তৃনমূলের নেতাকর্মী পদ্যতাগ করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে বিএনপির একজন উপজেলা সভাপতি বলেছেন, বিএনপি যে রাজনীতি করছে, এই রাজনীতিতে তিনি হতাশ হয়েছেন। এই রাজনীতি দলকে কিছু দিতে পারবে না। খালেদা জিয়ার মুক্তিও আনতে পারবে না। কাজেই তিনি রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছেন। অন্য কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিবেন কিনা এরকম প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন যে, কোন রাজনৈতিক দলে যোগ দিবেন না। এবং কোন রাজনীতি করার কোন ইচ্ছাও আপাতত তার নেই। একইভাবে কুমিল্লা থেকে যারা পদত্যাগ করেছেন, তারাও বলেছেন যে, বিএনপির সদস্য থাকলে নানা রকম মামলা-হামলার আশংকা রয়েছে। তারা স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারছেন না মামলার ভয়ে। আবার অন্যদিকে বিএনপি যে এসবের বিরুদ্ধে স্বোচ্ছার হয়ে আন্দোলন করবে সেটাও বিএনপি করতে পারছে না। এরকম বাস্তবতায় বিএনপি করার কোন যৌক্তিক কারণ তারা খুঁজে পাচ্ছেন না বলেও জানিয়েছেন। তবে বিএনপির সিনিয়র একাধিক নেতা মনে করছেন যে, বিএনপিতে খালেদাপন্থীদের এই আকস্মিক পদত্যাগের পেছনে কর্ণেল অলি আহমেদের হাত রয়েছে। কর্ণেল অলি আহমেদ সারাদেশের বিএনপির তৃনমূলের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেই এই নতুন মঞ্চ তৈরী করেছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন। তারা মনে করছেন যে, কর্ণেল অলি আহমেদ সারা দেশ থেকে বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীদের ডেকে নিয়ে আসার জন্যই মাঠে নেমেছেন। তবে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এটাও স্বীকার করেছেন, তৃনমূলকে ধরে রাখার জন্য কোন কর্মসূচী বা কোন ধরনের উদ্যোগ তারা গ্রহণ করতে পারেনি। সূত্রমতে গত নির্বাচন নিয়ে বিএনপির মধ্যে যে অস্থীরতা তৈরী হয়েছিল তার জের হিসেবেই বিএনপিতে হতাশা নেমে এসেছে। বিএনপি প্রথমে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে বাতিল করার দাবি জানিয়েছিল। পরে সেই নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছে তারাও শপথ নেয় এবং সেই শপথ গ্রহণের সময় বিএনপির তৃনমূলের কোন পরামর্শ বা মতামত গ্রহণ করা হয়নি। আবার ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পর বিএনপি বলেছিল, বিএনপি এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না। কিন্তু সেটাও বিএনপি প্রতিপালন করতে পারেনি। যার কারণে তৃনমূল কোন দিক নির্দেশনা পাচ্ছে না জন্যই এভাবে হতাশ হয়ে পদত্যাগ করছে। অন্য একটি সূত্র বলছে, তারা মনে করছে বিএনপির সদস্য থাকাই এখন বিপদ। বিএনপির সদস্য থাকলে বিভিন্ন মামলায় তাদের জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই কারণে তারা মনে করছেন, পদত্যাগ করাটা তাদের জন্য জরুরি। পদত্যাগ করে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাইছেন। এখন শেষ পর্যন্ত বিএনপি কি কারণে পদত্যাগ করতে চাইছে সেটা রহস্যময়। তবে বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করছেন, তৃনমূলের এই গণপদত্যাগ ঠেকানোই এখস বিএনপির জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ।