বাফুফে সভাপতিসহ ৩ জনের দুর্নীতি, নথি চেয়ে দুদকের চিঠি

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিনসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থ আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অভিযুক্ত অন্য দু’জন হলেন বাফুফের নির্বাহী সদস্য ও মহিলা কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণ ও প্রধান হিসাব কর্মকর্তা আবু হোসেন।

সূত্র জানায়, অভিযাগ সংক্রান্ত নথিপত্র চেয়ে দুদকের উপপরিচালক নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠি মঙ্গলবার বাফুফে সভাপতির কাছে পাঠানো হয়। চিঠিতে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওইসব কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাঈম সোহাগ সমকালের কাছে দুদকের চিঠি পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

জানা গেছে, কাজী সালাউদ্দিনসহ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু হয় গত বছরের মাঝামাঝি থেকে।

চিঠিতে দুদক অভিযোগ সংক্রান্ত কিছু নথি চেয়েছে। এগুলো হলো- কাজী সালাউদ্দিনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাফুফের ব্যাংক হিসাবগুলোর বিবরণ, সিলেট বিকেএসপিতে ফুটবল একাডেমি প্রতিষ্ঠায় ফিফা থেকে পাওয়া অর্থের পরিমাণ ও খরচের বিবরণ এবং ২০০৮ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক ও বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদন।

দুদক কী কী বিষয় খতিয়ে দেখছে জানতে চাইলে বাফুফে নেতা সোহাগ সমকালকে বলেন, কমিশন ৭-৮টি বিষয়ে জানতে চেয়েছে। তিন বছর আগে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়ন নেপালের প্রাইজমানি ইস্যু, নেপালকে প্রাইজমানি দিতে কেন দেরি হয়েছে, সলিডারিটি কাপ না খেলার কারণে এএফসির জরিমানার বিষয়, ফিফার সাবেক প্রেসিডেন্ট সেফ ব্লাটারের ঢাকা সফরের খরচের হিসাব, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের কোচের বেতন-ভাতা, সাবেক কোচ লুডভিড ডি ক্রুইফ ও রেনে কোস্টারের পাওনা নিয়ে তথ্য ও প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের প্রাইজমানি ছিল ৫০ হাজার ডলার। চ্যাম্পিয়ন নেপালকে দেওয়া হয়েছিল ২৫ হাজার ডলার। বাকি ২৫ হাজার ডলার দিতে দেরি করে বাফুফে।

বাফুফে যে নেপালের প্রাইজমানি পরিশোধ করেছে তার ডকুমেন্ট দুদককে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, নেপালের প্রাইজমানির অর্থ পুরোটাই পরিশোধ করা হয়েছে। এসবের ডকুমেন্ট সংরক্ষিত আছে।

তিনি আরও বলেন, দুদকের চাওয়া সব তথ্য সরবরাহ করা হবে।