বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এবং জনপ্রিয় সংগঠন আওয়ামী লীগের ৭০ বছর উদযাপন হচ্ছে। ৭০ বছর উদযাপন উৎসমমুখর হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এই উৎসবের মধ্যে যদি ইতিহাস বিকৃতি, আনাড়িপনা এবং উদ্ভট আত্মপ্রচারণা লোভ থাকে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে, তাহলে সেই উৎসবে কালিমা লিপ্ত হতে বাধ্য। এবার আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে সারাদেশে যে ব্যানার ফেস্টুন ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, তাতে স্পষ্টভাবে কদর্য আত্মপ্রচারণা দেখা গেছে। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড়- এবার আওয়ামী লীগের এই ব্যানার ফেস্টুন প্রচারণায় সেই সত্যটি প্রকাশিত হয়েছে। দেখা যাচ্ছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে জাতির পিতা একদম এককোনায় অপাংক্তেয় হয়ে পড়ে আছেন। তাকে না দিলেই নয়- এর মতো করে কোন রকমে তাকে দেওয়া হয়েছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকেও অবমাননা করা হয়েছে। তার ছবিও অনেক জায়গায় খুব ছোট করে দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু নেতাকে দেখা যাচ্ছে যে তার বিশাল ছবি দিয়ে তিনি আত্মপ্রচারণার সুযোগ পেয়েছেন। এরকম আত্মপ্রচারণা কুৎসিত এবং অরুচিকর এবং আওয়ামী লীগের নীতি আদর্শের পরিপন্থি বলেই মনে করছে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা।আওয়ামী লীগের ধারণা যারা হাইব্রিড, হঠাৎ করে কিছু পেয়ে বসেছেন এরকম উদ্ভট কিছু উদয় হওয়া নেতারাই এ ধরনের আত্মপ্রচারণা করছে।

আরো লক্ষণীয় বিষয়, এবার আওয়ামী লীগের যে প্রচার প্রচারণা করা হয়েছে বিভিন্ন রাস্তায় ব্যানার ফেস্টুনের মাধ্যমে। সেখানে কোথায় আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ছবি নেই। নেই প্রথম সভাপতি মওলানা ভাসানীর ছবি। এমনকি প্রথম সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকের ছবিও নেই। আওয়ামী লীগের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দল, যারা ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে পঁচাত্তরের পর থেকে দীর্ঘ লড়াই করে আসছে, তারা নিজেরাই কিভাবে ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িয়ে যায় সে প্রশ্ন উঠেছে রাজনৈতিক মহলে।

আওয়ামী লীগে দীর্ঘদিন ধরেই হাইব্রিড মুক্ত করার দাবি চলে আসছিল। আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষীকির প্রচার প্রচারণার ধরণ দেখে সেই সত্য আবার সামনে চলে এসেছে।