বসন্তের আমেজ বইমেলায়

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শাহবাগ এলাকায় কোনো কোনো গাছে ফুল ফুটেছে। দুপুরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শোনা গেছে কোকিলের ডাক। আর রাস্তাজুড়ে তরুণ-তরুণীদের হলুদবরণ সাজ জানান দিচ্ছে বসন্ত এসে গেছে দ্বারে।

বসন্তের প্রথম দিন বুধবার শাহবাগ থেকে টিএসসি হয়ে অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপচে পড়ছে তরুণ-তরুণীদের সাজ সাজ পদচারণায়। বইমেলায় তারা জুটিবদ্ধ হয়ে ঘুরছে হলুদবরণ শাড়ি ও পাঞ্জাবি পরে। কারো কারো মাথায় শোভা পাচ্ছে ফুলের ব্যান্ড। কারো বা হাতে প্রিয়মানুষের কাছ থেকে উপহার পাওয়া ফুলের তোড়া।

প্রতিবছরের মতো এবারও পহেলা ফাল্গুনে মেলার দ্বার খুলেছে সকালে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড়ের দেখা মিলেছে বইমেলায়। স্টল ও প্যাভিলিয়নগুলোর সামনে ভিড় করছে বসন্তপ্রেমী পাঠক-পাঠিকারা। তারা উল্টেপাল্টে দেখছে পছন্দের বই। মেলা থেকে ফিরতে থাকা দর্শণার্থীদের বেশিরভাগের হাতেই দেখা মিলছে বিভিন্ন প্রকাশনীর বইয়ের ব্যাগ।

রাজধানীর গুলশান থেকে এসেছেন অনিক ও তন্বী। বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই জুটির সঙ্গে কথা হয় মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ঐতিহ্যের প্যাভিলিয়নের সামনে। তারা সমকালকে বলেন, বসন্ত আসলে প্রেমের ঋতু। তিন বছর ধরে পহেলা ফাল্গুন আমরা এভাবে বেরিয়ে পড়ি। শাহবাগ-টিএসসি অঞ্চলেই আসা হয়। এরপর বইমেলায় ঘুরে বই কিনে সন্ধ্যার পর ফেরা হয় ঘরে।

তারা আরও বলেন, অন্য ঋতুর থেকে বসন্তে প্রকৃতির পরিবর্তনটা অনেক বেশি চোখে পড়ে। তাই বসন্ত আমাদের প্রিয় ঋতু। আসলে পুরা বসন্তজুড়েই থাকে আনন্দের আমেজ। তবে পহেলা ফাল্গুন অলওয়েজ স্পেশাল।

মেলার আজকের আমেজ ও বই বিক্রির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্যের কর্মকর্তা কাজল হোসেন বলেন, মেলায় প্রতিবছরই এইদিনে বেশি ভিড় থাকে। এবারও তাই। এমনকি কোনো বছর এই দিনটি পুরো মাসে সর্বোচ্চ বিক্রির সেরা পাঁচদিনের একদিন হয়ে থাকে। আজও বিক্রি ভালো। সন্ধ্যার পর মনে হচ্ছে আরও অনেক ভিড় হবে।