বখাটের হাতে নিহত তানজিনার পরিবারে শোকের মাতম


তানজিনা (২৪) বাবা-মায়ের চার সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাই যেন সবচেয়ে বেশি আদরেরও। সকাল-বিকেল সারা বাড়ি মাতিয়ে রাখতেন তানজিনা। বখাটের ছুরিকাঘাতে মেয়েটির মৃত্যুতে পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেছে! পরিবারের সদস্যরা সবাই মুষড়ে পড়েছেন। অকালে বুকের ধন হারিয়ে দিশেহারা তার বাবা-মা।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর ইউনিয়নের মাদ্রাসাপাড়ার হামিদ আলীর ছোট মেয়ে তানজিনা গ্রামীণ চক্ষু হাসপাতালের একজন নার্স ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুন সকালে কর্মস্থলে যাবার পথে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হন তানজিনা। তাকে এলোপাথারি কোপায় প্রতিবেশী ভাতিজা জীবন। তানজিনার অপরাধ ছিলো, বখাটে জীবনকে শাসন করেছিলেন তিনি।

অভিযুক্ত জীবনের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে স্থানীয়রা জানান, অনেক ভদ্র ও ভালো মেয়ে ছিলেন তানজিনা। শুধু তার বাসার লোকদের সঙ্গেই নয়, এলাকার প্রতিটি ব্যক্তির সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল।

নিহত তানজিনার ভাই সোহেল রানা অভিযোগ করে বলেন, ‘কোন কারণ ছাড়াই আমার বোনকে মেরে ফেলা হলো। কী দোষ ছিল আমার বোনের? শুধু একটু শাসন করেছিল বখাটে জীবনকে। আসলে জীবনের পরিবারের লোকেরা ভালো না। আমরা এর আগেও তার পরিবারকে অভিযোগ করেছিলাম। কিন্তু তারা শোনেনি।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহত তানজিনার বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ে সবসময় সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলতো। কারও সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করতো না। আমাকে আর আমার এই মেয়ে বাবা বলে ডাকবে না। আর কোনদিন দেখতে পাবো না তার মুখটি। আমার মেয়েকে বখাটে জীবন মেরেছে। আমি তার ফাঁসি চাই।’

ঠাকুরগাঁও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ঘটনার দিনই অভিযুক্ত আসামি জীবনকে আটক করেছি। মামলাটিতে আসামির যাতে সর্বোচ্চ শাস্তি হয় সেজন্য আমরা বিজ্ঞ বিচারকের কাছে দাবি করবো। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কি না সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’