‘ফখরুল যেখানে, প্রতিরোধ সেখানে’

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : সিঙ্গাপুর থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফেরার পর তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি বিকেল থেকে বিভিন্ন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করছেন। সেদিন ২১ শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে এক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেন। সেখানে বক্তব্য দেওয়ার সময় ফখরুল কর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। কর্মীরা ফখরুলের অপসারনের দাবি করে এবং নতুন আন্দোলনের কর্মসূচী ও দল পুনর্গঠনের দাবিতে মুহু মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। সে সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ঘরের মধ্যে এসব করে লাভ হবে না। রাজপথে আন্দোলন করতে হবে এবং আমরা আন্দোলনের কর্মসূচী দিবো। কিন্তু তারপরও স্লোগানকারীরা স্লোগান অব্যাহত রাখে। সে সময় মির্জা ফখরুল আশ্বাস দেন, দলের স্বার্থে দল পুনর্গঠন করা হবে। এরপর গতকাল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে শহীদ মিনারে ফুল দিতে যান। সেখানেও তিনি প্রতিরোধকারীদের প্রতিরোধের মুখে পড়েন। সেখানেও মির্জা ফখরুল ইসলামের অপসারণ এবং দল পুনর্গঠন এবং আন্দোলনের জন্য মুহু মুহু স্লোগান দিতে থাকেন। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য এই মুহূর্তে কর্মসূচী দরকার স্লোগানও দিতে থাকেন তারা। সে সময় মির্জা ফখরুল কোন বক্তব্য না রাখলেও অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে গাড়িতে উঠে চলে যান।

আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গিয়েছিলেন সুপ্রীম কোর্ট আইনজীবি সমিতি মিলানায়তনে। সেখানে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে কথিত ভোট চুরির অভিযোগে গণশুনাানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই অনুষ্ঠানে তিনি যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখনও তিনি একই রকম প্রতিবাদের মুখে পড়েন। প্রতিবাদকারীরা কর্মসূচী দাবি করেন এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অপসারণ দাবি করেন।

বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিএনপির নেতাকর্মীরা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এই নেতাকর্মীরা যেখানেই তাকে পাচ্ছেন, সেখানেই তার বিরুদ্ধে স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের একটাই দাবি, দলকে এভাবে হতাশার দিকে ঠেলে দেওয়া ঠিক হচ্ছে না। দলের অবিলম্বে কর্মসূচী দেওয়া উচিত। বিশেষ করে খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ধাপে ধাপে কর্মসূচী দেওয়ার কোন বিকল্প নেই বলে এই কর্মীরা মনে করছেন। যেহেতু মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিব এবং এই দায়িত্বে তিনি এখন পর্যন্ত কোন কর্মসূচী দিচ্ছেন না, সেজন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন।এই ক্ষোভ ক্রমশ দানা বেঁধে উঠছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে।

তবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঘনিষ্ঠরা বলছে, এটা বিএনপির একটি দুষ্ট চক্র পরিকল্পিতভাবে মির্জা ফখরুলকে বিতর্কিত করার জন্য এ ধরনের কর্মসূচী গ্রহণ করছে। তবে এ ধরণের কর্মসূচীর বাস্তব কোন ভিত্তি নেই। মির্জা ফখরুলের নেতৃত্বে দল অটুট এবং ঐক্যবদ্ধ আছে। এই সমস্ত ষড়যন্ত্রকারীরা সরকারের এজেন্ট বলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমর্থকরা মনে করছেন।