প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ঐক্যের ডাক ‘কথার কথা’: বিএনপি

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শনিবার সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয় ঐক্যের আহ্বানকে ‘কথার কথা’। তাই বিএনপি এ আহ্বানকে বিবেচনায় নিচ্ছে না।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে সরকার গঠনের পর শুক্রবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে ‘জাতীয় ঐক্যের’ ডাক দেন।

ফখরুল বলেন, “জাতীয় ঐক্যের ব্যাপারে উনি (প্রধানমন্ত্রী) যে ডাক দিয়েছেন, সেটাকে তো মেনে নেওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তারা যে বিষয়টা নির্বাচনের সময় দেখিয়েছেন, আমাদের সঙ্গে যে সংলাপ হল, তখন তিনি যে কথাগুলো ‍দিয়েছিলেন, সেই কথাও উনি রাখতে পেরেছেন?

“একটাও রাখতে পারেননি অর্থাৎ রাখেননি। তিনি বলেছেন, গ্রেপ্তার হবে না, নতুন কোনো মামলা হবে না এবং একটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা হবে, একটাও রাখেননি।”

অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিল বিএনপি। ভোটের পর তারা ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলার পর সংসদ সদস্য হিসেবে শপখ নেওয়া থেকেও বিরত রয়েছে তারা।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বিএনপিকে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, বিরোধী দলকে সদস্য সংখ্যা দিয়ে বিচার করবেন না তারা।

ফখরুল বলেন, “যে কথাগুলো (জাতীয় ঐক্য, সংসদে যাওয়া) উনি বলছেন, এগুলো কথার কথা। এগুলো উনি সব সময় বলেন। আমরা তো ফলাফলই প্রত্যাখ্যান করেছি। সেখানে শপথ নেওয়া ও পার্লামেন্টে যাওয়া- এই বিষয় তো কোনো প্রশ্নই ওঠে না।”

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে তার ‘অপরাধবোধের’ প্রকাশ দেখতে পেয়েছেন বিএনপি মহাসচিব।

“তার (প্রধানমন্ত্রী) বক্তব্য আমি শুনেছি। প্রথমে যেটা মনে হয়েছে যে, উনি একটা গিলটি কনশেন্স থেকে বক্তব্যটা রেখেছেন। তার কোথাও একটা মনে হচ্ছে যে, বিষয়টা ঠিক হয়নি, একটা ব্যাখ্যা দেওয়া প্রয়োজন। সেই ব্যাখ্যা উনি দিয়েছেন, কেন বিএনপি ভালো করতে পারল না, কেন তারা (আওয়ামী লীগ) এত ভালো করল।”

নির্বাচনের প্রকৃত চিত্র প্রকাশিত হয়নি দাবি করে ফখরুল বলেন, “ভয়ে প্রকৃত ঘটনায় কেউ যেতে চাচ্ছে না। মিডিয়াও বলছে না, অন্যান্যরাও সহজে বলতে ভয় পাচ্ছেন।

“কিন্তু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যে মিডিয়া, পলিটিক্যাল এরিনা, বিভিন্ন দেশগুলো থেকে যে সমস্ত বক্তব্য এসেছে, তাতে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, এই নির্বাচন কোনো নির্বাচনই হয়নি। এটা একটা কঠিন তামাশা হয়েছে জাতির সঙ্গে। যে কথাটা আমি বার বার বলছি, জাতির সঙ্গে ক্রুয়েল মকারি।”

একাদশ সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের ‘বড় রকমের ক্ষতি’ হল মন্তব্য করে ফখরুল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন করে নির্বাচনের দাবি জানান।

সরকারের সমালোচনা করে তিনিবলেন, ‘‘যে উন্নয়নের কথা বলা হচ্ছে, এটা পুরোপুরি ধোঁকার উন্নয়ন। কিছু মানুষ বড়লোক হচ্ছে। পত্রিকায় রিপোর্টও এসেছে যে, বাংলাদেশের ধনীর সংখ্যা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আর গরিব আরও গরিব হচ্ছে।

“দুর্নীতি এমনভাবে বেড়েছে যেন সেটা নিয়ে কেউ প্রশ্নও করতে পারে না। পুরোপুরি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চলছে এবং সেটা করার জন্য এই সমস্ত আয়োজন করা হচ্ছে, সেজন্য নির্বাচনটা এভাবে করা হয়েছে।”

নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সকালে ফখরুল উপস্থিত হওয়ার পর সাংবাদিকরা তার কাছে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি কথা বলেন।