প্রধানমন্ত্রীর কর্মহীন উপদেষ্টারা এখন কেমন আছেন?

নিজস্ব প্রতিবেদক

টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ সরকার। প্রথম মেয়াদের মত তৃতীয় মেয়াদেও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টামণ্ডলী রাখা হয়েছে। এই উপদেষ্টামণ্ডলীতে দুয়েকজন ছাড়া কারোরই কোন কাজ নেই।

অথচ ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে যখন দ্বিতীয়বারের মতো দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তখন একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা মণ্ডলী গঠন করা হয়েছিল। উপদেষ্টা মণ্ডলীর মূল উদ্দেশ্য ছিল সরকারের নীতি নির্ধারনী বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে পরামর্শ দেওয়া এবং মন্ত্রণালয়ের কাজগুলোকে নীরিক্ষণ পর্যবেক্ষণ এবং জবাবদিহীতার আওতায় আনা। প্রথম মেয়াদে উপদেষ্টামণ্ডলী সেভাবেই কাজ করেছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হেভিওয়েট নেতাদের মন্ত্রীত্ব দেওয়া হয় তখন উপদেষ্টামণ্ডলীর ভূমিকা সংকুচিত হয়ে যায়। তোফায়েল হোসেন, আমির হোসেন আমুর মত প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পাশে উপদেষ্টারা ম্লান হয়ে ছিলেন। তবুও তাদের কিছু কাজকর্ম ছিল। কিন্তু তৃতীয় মেয়াদে এসে হেভিওয়েটরা মন্ত্রিসভায় না থাকলেও উপদেষ্টামণ্ডলী একেবারে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। দুয়েকজন উপদেষ্টা তাদের নিজেদের মত করে কিছু কিছু কাজ খুঁজে নিচ্ছেন। কিন্তু বাকিরা বসে এবং রাজনৈতিক আলাপ আলোচনার মধ্য দিয়েই সময় কাটাচ্ছেন।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ছাড়া অন্য কোনো উপদেষ্টাদের হাতে কোনো কাজ নেই।

প্রধানমন্ত্রী ইদানিংকালে উপদেষ্টাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন বলেও খবর পাওয়া যায়নি। উপদেষ্টারা নিজেরাই উপযোজন হয়ে নিজেদের কিছু কাজ পেতে নিচ্ছেন। এবং বিভিন্ন সরকারি কাজ কর্মগুলোর অগ্রগতি এবং ফলাফল নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা বলছেন।

কোনো অনুষ্ঠানে মন্ত্রীদের না পাওয়া গেলে উপদেষ্টাদেরকে প্রধান অতিথি করা হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়েই উপদেষ্টামন্ডলীর কাজকর্ম সীমিত। উপদেষ্টামন্ডলীর অনেকেই কর্মহীনতায় হতাশ সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যখনই উপদেষ্টারা নাক গলাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রবল তোপের মুখে পড়ছেন। এই পরিস্থিতিতে উপদেষ্টার কার্যক্ষমতা এবং তাদের স্বপদে বহাল রাখার যৌক্তিকতা কতটুকু সে প্রশ্ন এখন আওয়ামী লীগের মধ্যেই।