পুলিশের বাধায় ঢাকায় অরুন্ধতী রায়ের অনুষ্ঠান স্থগিত

নিজস্ব প্রতিবেদক : বুকারজয়ী ভারতীয় লেখক, অধিকারকর্মী অরুন্ধতী রায়কে নিয়ে ঢাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠান স্থগিত হয়ে গেছে হঠাৎ করে পুলিশ অনুমতি প্রত্যাহার করে নেওয়ার কারণে।

ছবিমেলার আয়োজনে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফার্মগেইটের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘আটমোস্ট এভরিথিং’ শিরোনামে ওই অনুষ্ঠানে আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের সঙ্গে আলাপচারিতায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল অরুন্ধতীর।

কিন্তু ঢাকা মহানগর পুলিশ ‘অনিবার্য কারণ’ দেখিয়ে সোমবার রাতে ওই অনুষ্ঠানের অনুমতি প্রত্যাহারের কথা জানায়।

দৃক গ্যালারির আয়োজনে ঢাকায় চলমান আলোকচিত্র বিষয়ক আয়োজন ছবিমেলায় যোগ দিতে ইতোমধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন অরুন্ধতী রায়।

কিন্তু পুলিশের আকস্মিক সিদ্ধান্ত বদলের কারণে অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়েছে বলে জানান দৃক গ্যালারির ব্যবস্থাপক এস এম রেজাউর রহমান।

মঙ্গলবার সকালে তিনি বলেন, “গত ২৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের এই আয়োজনের জন্য তেজগাঁ থানা থেকে অনুমতি পাই। সেভাবেই সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ওই অনুষ্ঠানের জন্য নিবন্ধনও শেষ করেছিলাম আমরা।

“কিন্তু গতরাতে তেজগাঁওয়ের উপ পুলিশ কমিশনার আমাদের জানান, অনিবার্য কারণবশত অনুষ্ঠানটি আমরা করতে পারব না। পুলিশের এ নির্দেশে আমাদের অনুষ্ঠানটি আর করা সম্ভব হচ্ছে না।”

এ বিষয়ে জানতে চাইল তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, “অনিবার্যবশত কারণবশত অনুষ্ঠানটা বন্ধ হয়েছে। তাদের অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে না, এরকম একটা নির্দেশনা আছে।”

‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ উপন্যাসের লেখক অরুন্ধতী রায়ের বাবার ভিটা বাংলাদেশের বরিশালে। স্থাপত্যের ছাত্রী অরুন্ধতী প্রথমে ঝুঁকেছিলেন চলচ্চিত্রে।

১৯৮৫ সালে ‘মাসি সাহিব’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। পরে চিত্রনাট্য লিখতে শুরু করেন। তার চিত্রনাট্য ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও পায়।

প্রথম উপন্যাস ‘দ্য গড অব স্মল থিংস’ এর জন্য ১৯৯৭ সালে ম্যান বুকার পান অরুন্ধতী। তার দ্বিতীয় উপন্যাস ‘দ্য মিনিস্ট্রি অব দ্য আটমোস্ট হ্যাপিনেস’ প্রকাশিত হয় ২০১৭ সালে।

কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভারত সরকারের অবস্থানের কট্টর সমালোচক অরুন্ধতী মাওবাদী আন্দোলন নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের বড় একটি অংশের সঙ্গে বাহাসে জড়িয়ে ‘ভারতবিরোধী’ আখ্যা পান।

গতবছর বাংলাদেশে নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সময় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দৃক গ্যালারির কর্ণধার আলোকচিত্রী শহিদুল আলম গ্রেপ্তার হলে তার মুক্তির দাবিতে খোলা চিঠি লিখেছিলেন তিনি।