দীর্ঘ ২৮ বছর পর ডাকসু ভোট শুরু, ভোট দিবে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু ও হল সংসদে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচনে দীর্ঘ ২৮ বছর পর ভোট দিচ্ছে ৪৩ হাজার শিক্ষার্থী।

সোমবার সকাল ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৮টি হলের কেন্দ্রে এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে, চলবে বেলা ২টা পর্যন্ত।

অনেক প্রতীক্ষার এই নির্বাচনে ভোট দিতে বিভিন্ন হল কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থীদের লাইনে দাঁড়াতে দেখা গেছে সকাল ৭টা থেকেই।

এর মধ্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীন হল এবং এসএম হলে সকাল ৭টার সময়ই কয়েকশ শিক্ষার্থীর দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের হলে হলে গিয়ে ভোটার-শিক্ষার্থীদের ভোট দিতে ডাকতে দেখা যায়।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল বলেন, দুপুর ২টার মধ্যে হল চত্বরে চলে আসা শিক্ষার্থীদের ভোট প্রয়োজনে ২টার পরও নেওয়া হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য নির্বাচনগুলোর মত এ নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে এবং বিতর্কহীন থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের সবগুলো বাঁকে ছাত্র সমাজের অগ্রণী ভূমিকার কেন্দ্রে থাকা ডাকসু ও হল সংসদের সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে। এরপর কয়েক দফায় নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।

এ নির্বাচনে মোট ভোটার ৪৩ হাজার ২৫৫ জন। তাদের মধ্যে ৫টি ছাত্রী হলের ভোট ১৬ হাজার ৩১২। ১৮টি হলের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৪ হাজার ৬০৮ জন ভোটার আছেন ছাত্রীদের রোকেয়া হলে

ডাকসুতে ২৫ পদের বিপরীতে মোট প্রার্থী হয়েছেন ২২৯ জন; ১৮টি হল সংসদে ১৩টি করে ২৩৪টি পদে বিরপরীতে প্রার্থী ৫০৯ জন

ডাকসুতে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২১ জন; তাদের সঙ্গে এই নির্বাচনে ১৪ জন সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং ১৩ জন সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে লড়ছেন।

১২টি প্যানেলের বাইরে ভিপি পদে ৯ জন এবং জিএস পদে ২ জন স্বতন্ত্র হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আছেন।

ভোট দিতে হবে যেভাবে

প্রার্থীর সংখ্যা বিবেচনায় ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে অপটিক্যাল মার্ক রিকগনিশন (ওএমআর) ফর্মে।

সূর্যসেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা ওএমআর ফর্মে ভোট নিচ্ছি। প্রত্যেক শিক্ষার্থী চারটি করে ব্যালট পাবে। তিনটি কেন্দ্রীয় সংসদের এবং একটি হল সংসদের।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখিয়ে নিজ নিজ ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। দুপুর ২টার মধ্যে যারা কেন্দ্রে প্রবেশ করবে তাদের সকলেরই ভোট গ্রহণ করা হবে।

ভোটার নিজের আইডি কার্ড দেখিয়ে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করে প্রার্থীর নামের ডানপাশে নির্ধারিত ঘরে ‘ক্রস’ চিহ্ন দিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

পরিচয়পত্র নিয়ে ভোট প্রদানের নির্ধারিত লাইনে দাঁড়াতে হবে।

মোবাইল ফোনের সুইচ অফ রাখতে হবে।

নিরাপত্তা আর্চওয়ে বা মেটাল ডিটেক্টরে যথাযথভাবে পরিচয় পত্র প্রদর্শন করতে হবে।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে নির্ধারিত টেবিলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছে পরিচয়পত্র হস্তান্তর করতে হবে।

ভোটার তালিকার নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট পেপার সংগ্রহ করতে হবে।

পাঞ্চ করা পরিচয়পত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে ফেরত নিতে হবে।

ফাঁকা থাকা সাপেক্ষে সুশৃঙ্খলভাবে বুথে ঢুকে ভোট দিতে হবে।

বুথে সরবরাহ করা বলপেন দিয়ে নির্ধারিত স্থানে ক্রস চিহ্ন দিতে হবে।

ব্যালট পেপার ভাঁজ করা যাবে না।

ভোট দেওয়ার পর ভোট পেপার ডাকসু ও হল সংসদ এর জন্য নির্ধারিত আলাদা ব্যালট বাক্সে ফেলতে হবে।

সবশেষে নির্ধারিত গেইট দিয়ে ভোটকেন্দ্র থেকে বের হতে হবে।

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বুথ ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

ভোট কেন্দ্র থেকে টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না। গণমাধ্যম কর্মীরা চিফ রিটার্নিং অফিসারের ইস্যু করা পরিচয়পত্র দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট হলের রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি নিয়ে ভোট কেন্দ্রের গেস্টরুম বা নির্ধারিত স্থান পর্যন্ত প্রবেশ করতে পারবেন।