তাসকিন ‘ভালো ছাত্র’

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

এই আমার দেশ ডেস্ক : বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের কোচ হয়ে এসেছেন কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াকার ইউনিস। ক্রিকেট ইতিহাসেরই সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফাস্ট বোলারকে শিক্ষক হিসেবে পেয়েছেন তাসকিন আহমেদ। ওয়াকারের মতে, তাসকিন খুব ভালো ছাত্র, দারুণ পরিশ্রমী।
সিলেটে বসেই তাসকিন আহমেদ বলেছিলেন ওয়াকার ইউনিসের সঙ্গে কাজ করে কী ধরনের উপকার পেয়েছেন। কেবল তাসকিনই নন, বিপিএলে সিলেট সিক্সার্সের সব বোলারই দারুণ উপকৃত পাকিস্তানি বোলিং কিংবদন্তিকে কোচ হিসেবে পেয়ে। বোলিংয়ের উন্নতিতে ‘শিক্ষাগুরু’ হিসেবে ওয়াকারের চেয়ে ভালো আর কে হতে পারেন! এক সময় ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে জুটি বেঁধে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের পরীক্ষা নিয়েছেন। ‘টু ডব্লু’ শব্দটাই তখন আতঙ্ক ছড়াত ক্রিকেট দুনিয়ায়। গোটা নব্বইয়ের দশক বল হাতে রাজত্ব করা ওয়াকার শিক্ষক হিসেবে সে আগুনটাই জ্বালিয়ে দিতে চান তাঁর শিষ্যদের মধ্যে। তাসকিনের মধ্যে সে আগুনটা দেখা গেলে লাভ বাংলাদেশের ক্রিকেটের।

তাসকিন ওয়াকারের প্রিয় ছাত্রই। তাসকিনের শেখার আগ্রহটাই পাকিস্তানের সাবেক ফাস্ট বোলারকে বেশি আকৃষ্ট করে। তবে তাঁর কাজ কেবল তাসকিন বা অন্যান্য বোলারদের একটু ঘষে মেজে দাওয়া, আর কিছুই নয়, ‘আমি তাসকিনকে নিয়ে খুব যে কাজ করছি, ব্যাপারটা এমন নয়। তাসকিন নিজেই পরিশ্রম করছে। সে খুব পরিশ্রমী এবং বাংলাদেশ দলে সে দ্রুতই ফিরতে চায়। ছাত্র হিসেবেও সে খুব দ্রুত সবকিছু শিখতে পারে।’

তাসকিনকে নতুন কিছুই কি শেখাননি ওয়াকার? অ্যাকশন কিংবা ফলো থ্রু নিয়ে একটু বাড়তি কিছু কিংবা রিভার্স সুইংয়ের কৌশল—ওয়াকারকে তো এর রাজা বলা হয় ক্রিকেট ইতিহাসে। তবে পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক বলেছেন তিনি যা করেছেন সেটি হচ্ছে বাংলাদেশের তরুণ গতি তারকাকে উদ্বুদ্ধ করা, ‘তাসকিনের কোনো কিছুই আমি বদলে দেওয়ার চেষ্টা করিনি। আমি যেটা করেছি, সেটা হচ্ছে ওকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করেছি। পরিশ্রমের ব্যাপারটি আমি নিশ্চিত করেছি। সে যেটিতে অভ্যস্ত, সেটিই করছে। তাসকিন চোট থেকে ফিরেছে, এটা ভুলে গেলে চলবে না। চোট থেকে ফেরার পর নিজের আসল ফর্ম ফিরে পেতে যথেষ্ট সময় লাগে। এই সময়টা খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে। তাই এই সময়ে কারও না কারও সাহায্য লাগে। আমি সেটিই করছি।’

নিজে সাবেক ফাস্ট বোলার হলেও চট্টগ্রামের জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেট দেখে দারুণ খুশি ওয়াকার। তাঁর মতে এ ধরনের উইকেট—যেখানে প্রচুর রান হওয়ার সুযোগ আছে, খেলা হলে টুর্নামেন্টের মজাটাই বেড়ে যায়। খেলাও জমে ওঠে, ‘চট্টগ্রামের উইকেট টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য দারুণ। এই মাঠ কিন্তু মোটেও ছোট নয়। রান আসছেও প্রচুর। ১৮০-১৯০ নিয়মিতই হচ্ছে। দর্শকদের জন্যও এটা খুব ভালো। আপনারা দেখছেন চট্টগ্রামে কিন্তু প্রচুর দর্শক আসছে খেলা দেখতে।’

কয়েক মাস পরেই বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে বাংলাদেশ কেমন করবে? ওয়াকার অবশ্য কোনো ভবিষ্যদ্বাণীতে যাননি। করার চেষ্টাও করেননি। কবে তিনি মনে করেন ইংলিশ কন্ডিশন যথেষ্ট কঠিন, ‘বাংলাদেশ কেমন করবে, এটা আমি বলতে পারব না। পারফরম্যান্স নিয়ে কথা বলাটা আসলে খুব কঠিন। ইংলিশ কন্ডিশনে ভালো করতে প্রস্তুতিটা হওয়া চাই তেমন। প্রস্তুতি ভালো হলে পারফরম্যান্সও ভালো হবে। এটা বলে রাখি, ইংলিশ কন্ডিশন কিন্তু খুব কঠিন। বড় দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের খুব ভালো ফর্মে থাকতে হবে। বাংলাদেশ অতীতে ভালো করেছে। প্রস্তুতি ঠিক থাকলে, খেলোয়াড়েরা ভালো ফর্মে থাকলে এবারও বাংলাদেশ ভালো করতে পারে। নিজেদের দিনে পৃথিবীর যেকোনো দলকে বিপদে ফেলার, তাদের হারানোর ক্ষমতা বাংলাদেশের আছে—এটা বলতে পারি।’