ডাকসু নির্বাচন: উভয় সংকটে ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক : আজ ডাকসু নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যে ছাত্রলীগের বিপক্ষে জোট বেঁধেছে ছাত্রদল, কোটা সংস্কার আন্দোলন, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীরা। নির্বাচন নিয়ে নানা অনিয়ম, হলে ভোটকেন্দ্র, ভোটগ্রহণের সময়সূচি নিয়ে তারা প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করেছে। নির্বাচনে ছাত্রলীগের জয় বা হার যেটাই হোক তাতেই সংকটে পড়তে হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনটির।

ছাত্রলীগ যদি নির্বাচনে জয়লাভ করে তাহলে নির্বাচনে কারচুপি, ভোট জালিয়াতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে ছাত্রদল, কোটা সংস্কার আন্দোলন, প্রগতিশীল ছাত্রজোট ও স্বতন্ত্র জোটের প্রার্থীরা। আবার যদি ছাত্রলীগ কোন কারণে হেরে যায় তাহলে এটা চিহ্নিত করা হবে যে, জনপ্রিয়তার অভাবে ছাত্রলীগ হেরে গেছে। আওয়ামী লীগের সারাদেশে কোন জনপ্রিয়তা নেই। এটাই সারাদেশের চিত্র বলে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হবে।

নির্বাচনের পর থেকেই ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে একের পর অভিযোগ তোলে ছাত্রদলসহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনগুলো। ডাকসু নির্বাচনে সকাল ৮টা থেকে ২টা পর্যন্ত মাত্র ৬ ঘণ্টা ভোটের সময়, মাত্র ৩ মিনিটে ৩৮টি ভোট, ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা হলে ভোটকেন্দ্র স্থাপন, ছাত্রলীগের পক্ষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আচরণবিধির লঙ্ঘনসহ নানা অভিযোগ তোলে ছাত্রসংগঠনগুলো। এসবের মধ্য দিয়ে তারা ছাত্রলীগ তথা সরকারবিরোধী আন্দোলনের একটি পটভূমি তৈরি করেছে যেন নির্বাচনে ছাত্রলীগ জিতলে অনিয়ম, কারচুপিসহ নানা অভিযোগে তারা শক্তিশালী আন্দোলন করার শক্তি পায়।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে সবসময়ই একটি প্রভাবশালী জায়গা হয়ে আছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এরশাদের আমলে সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচনে জয়লাভ করেন আমানউল্লাহ ও খায়রুল কবীর খোকন। এরপরই স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন তুমুল রূপ ধারণ করে। ১/১১’র সময় আন্দোলনের প্রেক্ষাপটও এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই রচিত হয়। এবারের ডাকসু নির্বাচন খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয় হিসেবে দেখা দিয়েছে। কাজেই এটা ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বা ছাত্রলীগ এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের জন্য একাট অগ্নিপরীক্ষা। এই পরিস্থিতি সেটা সরকার বা ঢাবি প্রশাসন কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করে সেটা বোঝা যাবে আগামীকাল।