জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী পালনে ড. কামালের নেতৃত্বে নাগরিক কমিটি হচ্ছে

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজ্ব প্রতিবেদক : সর্বদলীয়ভাবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী করার উদ্যোগ নিয়েছেন ড. কামাল হোসেন এবং তাঁর নেতৃত্বাধীন গণফোরাম। গণফোরামের একাধিক দায়িত্বশীল নেতা নিশ্চিত করেছেন যে, জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী সর্বদলীয়ভাবে এবং সার্বজনীনভাবে উদযাপনের জন্য গণফোরাম সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আলোকে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি হবে বলে গণফোরামের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় কমিটিতে শুধুমাত্র গণফোরামের লোকজন নয়, বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকেও রাখা হবে। গণফোরামের অন্যতম নেতা অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে এই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, তাদের সম্মতি পেলেই আমরা এই নামগুলো প্রকাশ করবো। এই কমিটি কোন গণফোরামের কমিটি হবে না। এটি সার্বজনীন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি হিসেবে পরিচিত হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জাপানের সফরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ড. কামাল হোসেন- (ছবি – সংগৃহীত)

এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে ড. কামাল হোসেন থাকতে পারেন। অন্য একটি সূত্র বলছে, ড. কামাল হোসেন যেহেতু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তিনি কমিটির প্রধান না থেকে অন্য কাউকে প্রধান করতে পারেন। তবে এ কমিটিতে যারা বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ ছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে কাজ করেছেন, তাদের সবাইকে রাখার চেষ্টা করা হবে বলে গণফোরামের সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। তারা আওয়ামী লীগের নেতা তোফায়েল আহমেদ ,সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং বাহাত্তরের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের সাবেক তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অধ্যাপক আবু সাঈদ যিনি সম্প্রতি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছেন, অধ্যাপক রেহমান সুবহান, অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, অধ্যাপক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যসহ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষকে এই কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

গণফোরামের একটি সূত্র বলছে যে, তারা এই সমস্ত ব্যক্তির সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছে। তবে যারা এখন সরাসরি আওয়ামী লীগ করেন বা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পদে আছেন, তারা এই কমিটিতে থাকতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এবং তারা এ ধরনের কমিটি না করে জাতীয়ভাবে যে কমিটি হবে সেই কমিটির কর্মসূচী পালন করার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু গণফোরামের পক্ষ থেকে মনে করা হচ্ছে যে, জাতীয় কমিটি সরকারী কমিটি। জাতীয়ভাবে দেশের সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবি এবং বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপিত হওয়া প্রয়োজন। সেই উদযাপনে যেন সকল দল মতের মানুষের অংশগ্রহণ থাকে। সেটা নিশ্চিত করার জন্য গণফোরাম এরকম উদ্যোগ নিয়েছে। গণফোরামের নেতা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেছেন, এটি গণফোরামের কমিটি হবে না। এটি সাধারণ নাগরিকের একটি কমিটি হবে, নাগরিক সমাজের একটি কমিটি হবে। যে কমিটিতে যারা বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসেন। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যারা বিভিন্নভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। তারা ছাড়াও যারা মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালি এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করেন তাদের সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করা হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কোন ব্যক্তির নন, তিনি জাতির পিতা। এবং তিনি কোন দলের একক সম্পত্তি নন। কাজেই আমরা মনে করি যে, সকলের অংশগ্রহণে যেন জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। সেজন্যই এরকম কমিটি করা হচ্ছে।

জিজ্ঞেস করা হলে এটি কি আওয়ামী লীগ বা সরকারের পাল্টা কমিটি নাকি। তার উত্তরে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, এটি সরকারের পাল্টা কোন কমিটি নয়। বিভিন্ন সময়ে সরকারী কমিটির পাশপাশি নাগরিক সমাজও একটা প্লাটফর্ম তৈরী করে। আমরা নাগরিক সমাজের প্ল্যাটফর্ম থেকে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষীকিতে তার আদর্শ এবং চেতনাকে সারাদেশের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে চাই।