চোখ ছলছল করছিল প্রধানমন্ত্রীর

দৈনিক এই আমার দেশ দৈনিক এই আমার দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রয়াত সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্মরণ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পরেন প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা শেখ হাসিনা। জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। শোক প্রস্তাবের উপর আলোচনায় শেষ বক্তা ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সৈয়দ আশরাফকে তাঁর ‘ছোট ভাই’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘৭৫ এর ১৫ আগস্টে সবাইকে হারিয়ে আমি যাদের কাছে পেয়েছি, সৈয়দ আশরাফ তাদের একজন।’ তিনি বলেন,‘আমাদের জীবন বড়ই বিচিত্র। আমাদের আপনজন হারিয়ে এই শোক প্রস্তাব করতে হয়। আমি সৈয়দ আশরাফকে ছোটবেলা থেকেই চিনি। আমার পরিবারের সদস্য। কামালের সঙ্গে খুব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। একসঙ্গে যুদ্ধ করেছে। আমি আমার ছোট বোন বিদেশে ছিলাম। সেসময় আশরাফ আমাদের সঙ্গে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার জন্য কাজ করে। ও আমাকে বড় বোনের মতই জানতো। ৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর যারা আওয়ামী লীগে ছিলেন তারা প্রত্যেকেই একটা দুঃসময়ের মধ্যে কাটিয়েছেন। আমিই ৯৬ সালে আশরাফকে দেশে নিয়ে আসি। দেশে এসে রাজনীতি করতে বলি। যখনই তাকে কোন দায়িত্ব দিয়েছি। সে তার পালন করেছে। সবসময় পড়াশুনার মধ্যেই থাকতো। আশরাফ এত সহজ সরল ছিল। তার বোনকে আমরা নমিনেশন দিয়েছি। আমরা এতটুকু বলবো তার স্মৃতি সবসময়ই আমাদের মাঝে থাকবে। আমরা সবসময় তার কথা মনে রাখবো।’

প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুর আগে তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পরেন। এরপর তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের একমাত্র মেয়ের প্রসঙ্গে কেঁদে ফেলেন। তিনি এই কথা বলতে বারবার থেমে যান। একটা সময় দ্রুত তার বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন,‘মাননীয় স্পিকার আমার কথা বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে।’ প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য যাদের শোক প্রস্তাব আসছে তাদের জন্যও শোক প্রকাশ করেন।

এরপর সংসদ সদস্যরা সৈয়দ আশরাফ ও অন্যান্যদের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।

এর আগে জাতীয় সংসদের রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই শোক প্রস্তাব পাশ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ ১ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফসহ বিগত সংসদ থেকে এ সংসদের মধ্যবর্তী সময়ে যারা মারা গেছেন তাদের জন্য শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। পরে প্রয়াত সৈয়দ আশরাফের উপর আলোচনায় অংশ নেন সাংসদরা। আশরাফের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়ে প্রথমেই বক্তব্য রাখেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক। এরপর একে একে আরও কয়েকজন সংসদ সদস্য সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।

সংসদে কথা বলতে কাউকে বাধা দেওয়া হবে না: প্রধানমন্ত্রী

এদিকে, বিরোধী দলকে সংসদে কথা বলার জন্য সব সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণতান্ত্রিক ধারায় সমালোচনা সব সময় গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিরোধী দলকে আশ্বাস দিতে পারি আপনারা যথাযথভাবে সরকারের সমালোচনা করতে পারবেন। এখানে আমরা কোনও বাধা দৃষ্টি করবো না। অতীতেও কোনও দিন আমরা বাধা দেইনি।’

বুধবার (৩০ জানুয়ারি) একাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বৈঠকে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। আর সংসদ আপনাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছে। এজন্য আমরা সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘অনেক ঘাত-প্রতিঘাত, চড়াই-উৎরাই পার হয়ে আমরা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এবারের নির্বাচনে সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে। একটি সফল নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এই সংসদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

স্পিকারকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদ নেতা হিসেবে আমার দায়িত্ব হচ্ছে সব সদস্যের অধিকার দেখা, সেইসঙ্গে স্পিকার হিসেবে সরকারি দল ও বিরোধী দলসহ সব সদস্য যাতে সমান সুযোগ পায়, অবশ্যই আপনি সেটা দেখবেন। এ ব্যাপারে আপনাকে আমরা সব রকম সহযোগিতা করবো। সেই আশ্বাস আমি দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রই একটি দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়, তা আজ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রমাণিত সত্য। আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছি। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে একটি ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ গড়ে তুলবো।’

সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ ভোট দিয়ে যেহেতু আমাদের নির্বাচিত করে। আমরা যারা প্রতিনিধিরা বসেছি প্রত্যেকে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে আমরা স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভোটারদের সার্বিক উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে এবং দেশে যাতে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে, বাংলাদেশ জঙ্গিমুক্ত, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত উন্নত সমৃদ্ধ দেশ যাতে গড়ে উঠে মানুষের জীবনের জীবনে শান্তি ও নিরাপদ হয় সেটাই আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। অবশ্যই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।’