চুয়াডাঙ্গায় ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলে বাড়ছে দুর্ঘটনা

৭শ অনুমোদন থাকলেও ৪হাজারের বেশি এই বাহনের অনিয়ন্ত্রিণহীন চলাচলে বাড়ছে দূর্ঘটনা ও দুর্ভোগ

প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা : ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইকের যানজটে নাকাল হচ্ছে চুয়াডাঙ্গা শহরবাসী। যত্রতত্র এসব যানবাহন অঘোষিত স্ট্যান্ড বানিয়ে যাত্রী পরিবহন করায় মূল সড়কগুলোতে লেগে থাকে যানজট। শহরের পাড়া-মহল্লা অলি-গলিতে এসব যানের বেপরোয়া চলাচলে বাড়ছে দুর্ভোগ-দুর্ঘটনা। শুরুতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সুবিধা হওয়ায় এসব যান জনপ্রিয় হয়ে ওঠলেও পরে সংখ্যার দিক থেকে বেড়ে যাওয়ায় এখন তা সুবিধার পরিবর্তে জনজীবনে মহাভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু জেলা শহরে এক হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক রয়েছে। এ ছাড়াও চার উপজেলার ৪১টি ইউনিয়নে ৭শ অনুমোদন থাকলেও ৪হাজারের বেশি এই বাহনের নিয়ন্ত্রিণহীন চলাচল চোখে পড়ে। এসব যানবাহনের যত্রতত্র পার্কিং ও অদক্ষ চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন হাজারো মানুষ। কোনো প্রশিক্ষণ ছাড়াই এবং রাস্তার নিয়মনীতি না জেনেই গাড়ি চালানোর কারণে প্রতিনিয়ত ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এ ছাড়াও সড়ক দখল করে চলাচলের ফলে জরুরি কাজে নিয়োজিত সরকারি, বেসরকারি, যাত্রীবাহী গাড়িসহ রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সও সঠিক সময়ে তাদের গন্তব্যে পৌঁছুতে পারছে না। এ সব ইজিবাইকের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বললেই চলে, যা আছে সেটি হলো বাংলাদেশ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার পরিচয়পত্র।
সম্প্রতি ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে নিতে চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষ সম্মিলিত একটি উদ্যোগের কথা আলোচনায় আসে। সেটি হলোÑ পৌরসভা থেকে লাইসেন্স করার সুযোগ দেয়া হবে তাদের। পৌরসভার অন্তর্গত ইজিবাইক চালকরা পৌরসভা থেকে এবং গ্রামপর্যায়ের চালকরা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে লাইসেন্স সংগ্রহ করতে পারবেন। সবাই লাইসেন্স নিলে চলাচলকারী ইজিবাইকের পরিসংখ্যান পেতে বেগ পেতে হবে না। সে অনুযায়ী রুট নির্ধারণ করে ইজিবাইক চলাচলে শৃঙ্খলা ফেরানো সম্ভব হবে। এ জন্য ইজিবাইক মালিক বা চালকদের লাইসেন্স প্রতি মাত্র দুই হাজার টাকা খরচ করতে হবে। সবাইকে লাইসেন্স করার সুযোগ করে দিতে কিছু টাকা কম নেয়ার কথাও জানিয়েছেন পৌর মেয়র।
এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার যৌথ সিদ্ধান্ত অনুয়ায়ী সদর হাসপাতাল সড়কে একমুখী চলাচল শুরু হলেও ইজিবাইক চালকেরা প্রতিনিয়ত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটাচ্ছে। এই পয়েন্টেই ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কয়েকজনকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেলেও তারা ইজিবাইক চালকদের সাথে পেরে উঠছে না। অনেকে বলছেন এটি একটি ভালো উদ্যোগ ছিল। যে কারণে হাসপাতাল এলাকায় কিছুদিন শান্তিপূর্ণ চলাচল করা যেত। বর্তমানে প্রশাসনের নজর না থাকায় আর লোকবল সঙ্কটের কারণে পূর্বের রূপে ফিরেছে হাসপাতাল রোড। অনেক সময় মোবাইল কোর্টে বেপরোয়া ইজিবাইক চালকদের জরিমানা করা হলেও তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়া যাচ্ছে না। ফলে রাস্তায় যানজট, বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর মতো কা সহ যাত্রী ও সাধারণ মানুষ ভোগান্তি বেড়েই চলেছে।
এ প্রসঙ্গে চুয়াডাঙ্গা পৌর মেয়র ওবায়দুর রহমান চৌধুরী জিপু বলেন, ‘আমাদের সড়ক-মহাসড়কে ভারী যানবাহনের শৃঙ্খলা রয়েছে। তবে কিছুটা যানজট সমস্যা রয়েছে ইজিবাইকের বেপরোয়া চলাচলের কারণে। পৌরসভা থেকে তাদের লাইসেন্স করে নিতে বেশ কয়েকবার আহ্বান জানিয়েছি বলে জানান তিনি।