গত চার ম্যাচে যেভাবে খেলেছি, চেষ্টা করব আজ্ও সেভাবে খেলতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বকাপ শুরুর আগে সাকিব আল হাসানকে সম্ভাবনার নিক্তিতে তুলে ভালোই করেছিলেন রিকি পন্টিং। তবে মূল্যায়ন করতে গিয়ে একটু ভুলও করে ফেলেছিলেন অলরাউন্ডার স্বীকৃতিটাকে ব্যাটিংয়ের দিক থেকে খাটো করে দেখিয়ে! অস্ট্রেলিয়ান এই ব্যাটিং কোচ সাকিবকে রেখেছিলেন বোলারদের সম্ভাব্য পারফরমারের তালিকায়। একজন ভয়ঙ্কর ও চতুর স্পিনারের লেবেল জুড়ে দিয়ে সম্মানের যে মসনদে বসিয়েছিলেন পন্টিং, সেখানে বাঁহাতি এই অলরাউন্ডারের ব্যাটিংটাকেও ধর্তব্যে নিলে ভালোই করতেন। হয়তো পন্টিংকে আরও বেশি করে ভুল প্রমাণ করতেই টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকে রানের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন সাকিব। আজ তা নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজেও বহমান থাকতে পারে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। সাংবাদিকদের দেওয়া সাকিবের বক্তব্যে সে বার্তাই রয়েছে, ‘অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে অনেক দিন আমাদের খেলা হয় না। তারা বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দল। টুর্নামেন্টে ভারত ছাড়া বাকি চারটি ম্যাচ তারা জিতেছে। এই ম্যাচটা খেলার জন্য ব্যক্তিগতভাবে আমি মুখিয়ে আছি। গত চার ম্যাচে যেভাবে খেলেছি, চেষ্টা করব কালও (আজ) সেভাবে খেলতে।’ বাংলাদেশ চার ম্যাচ খেলে যে দুটিতে জিতেছে, তাতে দলের পারফরম্যান্স ছিল সাকিবময়। দুটি করে সেঞ্চুরি-হাফ সেঞ্চুরি মিলে ৩৮৪ রান নিয়ে এই আসরে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোরের তালিকায় শীর্ষ আসন তার। এই সাকিবই আজ মুখোমুখি হবেন পন্টিংয়ের দল অস্ট্রেলিয়ার। গোড়ায় করা ভুল শুধরে নিয়ে পন্টিং যে গতকাল অসিদের টিম মিটিংয়ে টাইগার সাকিবকে ঠেকাতে তার খেলোয়াড়দের অন্তত ডজনখানেক কৌশল বাতলে দিয়েছেন, এতে সন্দেহ নেই। এই ফাঁদ কেটে বেরিয়ে যাওয়ার গলি-ঘুপচি চতুর সাকিবেরও ভালো চেনা। নিজের দিন হলে প্রতিপক্ষকে ঠিকই উল্টো পথ দেখাতে জানেন এ বাঁহাতি। ব্যাটিং-বোলিংয়ের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শন করে একা হাতে জেতাতে পারেন দলকে। এর নমুনা তো দু’দিন আগেই টনটনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পেয়ে গেছে বিশ্ব ক্রিকেট। বোলিংয়ে দুই উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে হয়ে উঠেছিলেন সুপারম্যান। ক্যারিবীয় ফাস্ট বোলারদের তুলাধোনা করে ৮৩ বলে সেঞ্চুরি আর ৯৯ বলে ১২৪ রানে ছিলেন অপরাজিত। তামিমের সঙ্গে ৬৯ আর লিটনকে নিয়ে ১৮৯ রানের হার না মানা রেকর্ড জুটি করেন। আজকের ম্যাচ নিয়েও পরিকল্পনা বদল হয়নি তার, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে জয়ের পর দল ভালো শেপে আছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, মানসিকভাবে সবাই খুব ভালো আছে। আগের ম্যাচটা সবাই যেভাবে খেলেছে, একইভাবে খেলতে পারলে ভালো কিছু আসতে পারে।’ এই ভালো কিছু মানেই যে জয়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ, স্বপ্নের সেমিফাইনাল খেলতে হলে যে জয় দিয়েই এগোতে হবে- সাকিব তা ভালো করেই জানেন, ‘যে চারটা ম্যাচ আছে, ম্যাচগুলো হওয়া খুব জরুরি। সেমিফাইনালে কোয়ালিফাই করতে হলে পয়েন্টগুলো পেতে হবে। আশা করি, সবক’টি ম্যাচ হবে।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডারের ওয়ানডে রেকর্ড খুব বেশি ভালো বলা যাবে না। অসিদের সঙ্গে এ পর্যন্ত আট ম্যাচ খেলে ১৭৬ রান তার, যেখানে পঞ্চাশ-ছোঁয়া (৫১ রান) ইনিংস একটি। সাকল্যে উইকেট পাঁচ। তবে রেকর্ড-বুকটাকে আজ নতুন করে সাজাতেও পারেন এই বাঁহাতি। এমন প্রতিজ্ঞাও নিয়ে রেখেছেন টাইগার অলরাউন্ডার, ‘গত চার ম্যাচে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফাস্ট বোলারদের মোকাবেলা করে এসেছি। প্রত্যেক দলেই দু’জন করে ফাস্ট বোলার আছেন, যারা ১৪০ কিলোমিটারের চেয়েও জোরে বল করেন। ফাস্ট বলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ম্যাচও জিতেছি। সুতরাং অস্ট্রেলিয়ার পেস বোলিং নিয়ে আমরা চিন্তিত নই। আমি স্কিল সমৃদ্ধ একটা দল এবং ফাস্ট বোলিংয়ের বিরুদ্ধে কীভাবে পাল্টা আক্রমণে যেতে হয়, তা ভালো করেই জানি।’