খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন আজ


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে কারামুক্ত হতে হলে আপাতত দুইটি সাজার মামলায় জামিন লাভ করতে হবে। তার নামে বর্তমান সরকার ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দায়েরকৃত মোট ৩৬টি মামলার মধ্যে ৩৪ মামলায় জামিনে আছেন তিনি। ২১টি মামলার কার্যক্রম আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। ১৩টি মামলা বিচারাধীন। এখন দণ্ডপ্রাপ্ত জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন হলে তার মুক্তির বাধা অপসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন তার আইনজীবীরা।

গত ১৭ মাস ধরে কারাগারে আটক এই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দুই মামলার রায়ে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গুরুতর অসুস্থতার কারণে গত ১ এপ্রিল থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎিসাধীন রয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ গত মঙ্গলবার কটূক্তি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলা দুটিতেও জামিন পেয়েছন তিনি। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায়ের নথি হাইকোর্টে না আসায় জামিনের জন্য আইনজীবীরা আবেদন করতে পারছিলেন না। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে মামলার নথি পৌঁছেছে। ফলে বেগম খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা গতকাল জানান, আজ রবিবার এ মামলায় জামিন আবেদন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব জামিন আবেদনের শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এই জামিন আবেদন নিষ্পত্তির পর জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার আবেদনের শুনানি করতে চান আইনজীবীরা।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আছে আপিল বিভাগে। ঐ মামলায় সাজার মেয়াদ বাড়িয়ে ৫ বছর থেকে ১০ বছর করায় আবার জামিন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। সাজা বাড়ানোর বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জামিনেরও আবেদন আছে।

বেগম জিয়ার অন্যতম আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলাটি আপিল বিভাগে রয়েছে। এই মামলায় তিনি জামিন পেয়েছিলেন। কিন্তু আদালত তাঁর সাজা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেছে। জিয়া চ্যারিটেবল মামলায় জামিন আবেদনের শুনানি শেষ হলে অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় জামিন চাওয়া হবে। আমরা আশা করি বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, বয়স, সামাজিক মর্যাদা সদয়ভাবে বিবেচনা করে আদালত দ্রুত জামিন দেবেন। দুই মামলায় জামিন হলে তিনি মুক্ত হবেন।

এ বিষয়ে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, আজ রবিবার আমরা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলার জামিন আবেদন আদালতে মেনশন করব এবং যত দ্রুত সম্ভব শুনানির উদ্যোগ নেবো।