খালেদা জিয়ার ঘুম বিভ্রাট

নিজস্ব প্রতিবেদক : গতকাল ছিল ২০ ফেব্রুয়ারি বুধবার, নাইকো মামলার শুনানি নির্ধারিত ছিল। খালেদা জিয়ার আদালতে হাজিরা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি হাজির হননি। তাকে হাজির করার দায়িত্বে ছিল কারা কর্তৃপক্ষ। আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞেস করে কেন হাজির করা হয়নি? তখন কারা কর্তৃপক্ষ জানান, খালেদা জিয়া ঘুম থেকে উঠতে পারেননি। এজন্য তিনি আসতে পারেননি। তখন বাজে বেলা সাড়ে এগারটা। বেগম খালেদা জিয়া তখনও ঘুমিয়ে ছিলেন। কারাগারেও তিনি ১১টা, ১২টা ও কোন কোনদিন সাড়ে বারোটা অব্দি ঘুমান বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়ার এই ঘুম বিলাস নতুন নয়। আমরা খালেদা জিয়ার এই ঘুম বিলাসের কথা প্রথম জানতে পারি ১৯৯১ সালে, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পরে তখন মন্ত্রিসভার বৈঠক রীতি অনুযায়ী করা হত সকাল ১০ টায়। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরেই জানিয়ে দেন, সকাল ১০ টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক করা সম্ভব নয়। মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হবে বেলা এগারোটায়। প্রধানমন্ত্রী যা বললেন, সেটাই তথাস্থ। কাজেই, মন্ত্রিসভার সময় পরিবর্তন করা হলো। ১০ টার বদলে ১১ টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক আহ্বান করা হলো। প্রথম দুই মন্ত্রিসভায় তাও তিনি ১৫ মিনিট দেরি করে হলেও উপস্থিত হয়েছেন। কিন্তু তৃতীয় মন্ত্রিসভায় গিয়ে বাধলো বিপত্তি। মন্ত্রিসভার সব মন্ত্রীরা উপস্থিত, সচিবরা উপস্থিত, সব কিছু প্রস্তুত, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাসভবন থেকে তখনো রওনা দেননি। বিএনপির কার কয়জনের বুকে সাহস থাকবে যে, জিজ্ঞেস করবে বেগম জিয়া এখন পর্যন্ত কেন আসেননি? তাদের দৌড় ছিল চাপরাশি ড্রাইভার পর্যন্ত। কিন্তু তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল যে, বেগম খালেদা জিয়া বেডরুম থেকেই বের হননি। এসএসএফের লোকরা এবং অন্যান্য ব্যাক্তিগত স্টাফরা বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ঠিক সাড়ে বারোটায় ঘুম ভাঙ্গে খালেদার জিয়ার। তারপর তিনি মন্ত্রিসভার বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে করতে দুপুড় দেড়টা বাজে। ১ টা ৪৫ মিনিটে সেদিন বেগম খালেদা জিয়া ক্যান্টনমেন্টের বাসা থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠকের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন। ১১টার বৈঠক শুরু হয়েছিল দুপুর ২ টায়। ওই বৈঠকেই ক্ষুব্ধ বেগম খালেদা জিয়া সকালে বৈঠকের প্রস্তাবনা নাকোচ করে দেন। তিনি বলেন যে, মন্ত্রিসভার বৈঠক করতে হবে বিকেল বেলায়। এরপর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার শাষনামলের দুই মেয়াদেই মন্ত্রিসভার বৈঠক হত বিকেলে। প্রথম মেয়াদে বিকেল ৩ টা থেকে মন্ত্রিসভার বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হত দুপুর আড়াইটা থেকে। কোন কোন সময় মন্ত্রিসভার সান্ধ্যকালীন বৈঠকের খবরও আমাদের কারো অজানা নয়। শুধু মন্ত্রিসভার বৈঠক নয়, বেগম খালেদা জিয়া যতদিন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময় সকালের কোন কর্মসূচী তিনি গ্রহণ করতেন না। কর্মসূচী পিছিয়ে দেওয়া হত। কর্মসূচীটা করতে হত হয় বিকালে অথবা সন্ধ্যায়। এরকম অনেকগুলো কর্মসূচী সকালে করার কথা ছিল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না, এইজন্য এই কর্মসূচীগুলো দুপুরে বা বিকালে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এরকম কয়েকটি কর্মসূচীর মধ্যে রয়েছে সমবায় দিবসের অনুষ্ঠান, সেই অনুষ্ঠান সকাল দশটায় করার কথা ছিল। কারণ, সমবায় দিবসে সারাদেশ থেকে সমবায় কর্মীরা আসেন। এবং সকালে এসে বিকেলে তাদের চলে যেতে হয়। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেহেতু ঘুম থেকে সকালবেলা উঠতে পারবেন না। সেজন্য ঐ কর্মসূচী দুপুর দুইটায় করা হয়। এরকম অনেকগুলোই কর্মসূচী করা হয়। শুধু সরকারী বা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচী নয়, খালেদা জিয়া ঘুম থেকে উঠতে পারবেন না বলে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকও বিলম্বে করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

এ ব্যপারে কিছু মজার অভিজ্ঞতা কূটনৈতিক পাড়ায় চালু রয়েছে, ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন বাংলাদেশে দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে। এবং প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার নির্ধারিত সাক্ষাতের সময় ছিল ৯.৩০ মিনিটে। কিন্তু একজন বিদেশি প্রধানমন্ত্রী এক থেকে দেড় ঘন্টা বসে থাকার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাত পান। কারণ একটাই, বেগম খালেদা জিয়া ঘুমিয়ে ছিলেন। তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠতে পারেন না।

বেগম খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠরা জানান, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন। ভোররাতের দিক ঘুমাতে যান। এবং তারপর ১১টা, ১২টা, কোন কোন দিন সাড়ে বারোটা পর্যন্ত তিনি ঘুমান। যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তখনও এই দেরীতে ঘুমানো বা দেরীতে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস পরিবর্তন হয়নি। অনেকে বলেন, মানুষ কষ্টে থাকলে অনেক বদঅভ্যাস পাল্টে ফেলে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে যে, বেগম খালেদা জিয়ার কারাজীবন ১ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। কারাজীবনে তিনি কষ্টে আছেন বলে বিএনপির নেতারা সারাক্ষন চিৎকার করে বলছেন। খালেদা জিয়া দু:সহ কঠিন যন্ত্রণার মধ্যে আছেন বলে রিজভী প্রতি সপ্তাহে অন্তত তিনবার করে বক্তব্য রাখছেন।