ক্রেতাদের মধ্যে অস্তিরতা বিরাজ কুষ্টিয়ার বাজারে পেঁয়াজের সাথে পাল্লা দিয়ে চাউলের মূল্য বৃদ্ধি

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ॥ গত ২ মাস ধরে পেঁয়াজের দাম নিয়ে সাধারণ মানুষের যখন নাভিশ্বাস অবস্থা তখন আরেকটি দুঃসংবাদ হয়ে এলো চালের দাম। কুষ্টিয়ার খুচরা ও পাইকারি দুই বাজারেই কেজিতে চালের দাম ২ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ার খুচরা বাজারে মিনিকেট ৫০ টাকা, আটাশ ৪০ টাকা ও নাজির ৫৫ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা গত সপ্তাহে ৪৫ টাকা, ৩৫ টাকা ও ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে সব ধরণের চালের দাম ৫ টাকা বেড়েছে। কুষ্টিয়ার এক ব্যবসায়ী বলেন, বস্তা প্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। প্রতি বস্তা মিনিকেটে দাম বেড়েছে ১৫০ টাকা। আর আতপ চালের বস্তা বেড়েছে ৩০০ টাকা করে। চাউলের এক মিল মালিক জানায়, মৌসুম শেষ হয়ে আসায় চালের দাম কিছুটা বেড়েছে। সামনে নতুন চাল উঠলে তখন দাম কমে যাবে। কুষ্টিয়ার এক আড়ৎদার জানায়, আমরা এতদিন ২০০০ থেকে ২০৫০ টাকা বস্তাতে চাল বিক্রি করেছি। গতসপ্তাহে যে চাল কিনেছি তা বিক্রি করতে হবে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকায়। মিনিকেট এখন ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা বস্তাতেও বিক্রি হচ্ছে। আটাশ ১৫০০ থেকে ১৫৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ১৬০০ টাকা বস্তা। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বাজারে এখনও কিছু পুরাতন চালানের চাল রয়েছে। তাই দাম কিছুটা কম। নতুন চালানের চালের দাম আরও বাড়বে। এই আড়ৎদারের অভিযোগ মিলাররা চালের অর্ডার নিচ্ছে না। তাই সরবরাহ না বাড়ায় দাম বাড়াতে হচ্ছে। হটাৎ করে দাম বাড়ার পেছনে ব্যবসায়ীদের যুক্তি হচ্ছে, মৌসুম শেষ হয়ে আসাই চালের দাম বাড়ার কারণ। তবে কোনো কোনো ব্যবসায়ী মিলারদের কারসাজিকে দায়ী করছেন। আবার মিলাররা বলছেন, সরকার আমন মৌসুমে ধান চাল সংগ্রহের ঘোষণা দেওয়ায় তাদের বাড়তি দামে ধান কিনতে হচ্ছে। ফলে বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। এদিকে, কৃষকের মাঠে এখন আমন ধান রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক জমি তেই আমন ধান পাকতে শুরু করেছে। সবমিলিয়ে আমন ধানের নতুন চাল বাজারে উঠবে শিগগিরই। এদিকে, গেল বোরো মৌসুমে প্রায় ২ কোটি মেট্রিক টন ধান উৎপাদন হয়েছিল। বাম্পার ফলন ও দাম না পেয়ে মাঠেই ধান পুড়িয়ে ফেলেছিল কৃষক। এ ঘটনায় সরকার নড়েচড়ে বসলেও ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে পারেনি। অভিযোগ ছিল, মিলাররা ঠিকমতো ধান কিনছেন না। বাধ্য হয়ে ৫০০ টাকা মণেও ধান বিক্রি করতে হয়েছিল কৃষককে। চাল আমদানিতে শুল্ক দ্বিগুণ করা হলেও মাঠে তার ফল লক্ষ্য করা যায়নি। উল্টো পাঁচ মাস যেতে না যেতেই চালের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এরইমধ্যে দেশের কোথাও কোথাও বোরোর বীজতলা তৈরি শুরু হয়েছে। আগামী বছরের এপ্রিল মে মাসের দিকে কৃষকের গোলায় বোরো ধান উঠতে শুরু করবে। এদিকে পেঁয়াজের বাজারের সাথে পাল্লা দিয়ে চালের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় কুষ্টিয়ার বাজারে ক্রেতাদের মধ্যে অস্তিরতা বিরাজ করছে। ক্রেতারা জানায়, পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধির সাথে সাথে চালের মূল্য বৃদ্ধিতে জনসাধারনের জীবনযাত্রা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। তাই সরকারের উচিত যতদ্রুত সম্ভব মূল্য নিয়ন্ত্রনে এনে জনসাধারনের জীবন সহজাপন্ন করে তোলা ।