কুষ্টিয়ার বারাদীতে জমজমাট মাদক ব্যাবসা

নিজস্ব প্রতিনিধি:কুষ্টিয়ায় বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছে একাধিক মাদক কারবারি। বেশ কয়েকজন চিহ্নিত মাদক করবারি ধরাও পড়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক। এ ছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা হয়েছে বেশ কয়েকজনের।আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন তৎপরতার মাঝেও থেমে নেই জেলার মাদক কারবার। অভিযানের মুখে কৌশল বদল করেছে মাদক কারবারিরা। নতুন নতুন এলাকা বেছে নিয়ে মাদকের স্পট বানানো হচ্ছে। আর পুরনো স্পটগুলোতে কারবারি ও সেবকদের আনাগোনাও অনেকটাই কমে গেছে। অনেকে আবার আত্মসমর্পনের পরও অভিনব কৌশলে মাদক ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা ধারাবাহিক অভিযানের মুখেও কুষ্টিয়ার বারাদী এলাকায় চলছে দূর্ধর্ষ মাদক সম্রাট কুদ্দুস ওরফে কুদুর রমরমা মাদক ব্যাবসা । যেন গোটা এলাকা মাদকসেবী আর ব্যাবসায়ী কুদুর স্বর্গরাজ্যে পরিনত হয়েছে। কথিত রয়েছে মাদক ব্যাবসাকে কেন্দ্র করে বারাদী জামে মসজিদ সংলগ্ন খালপাড় এলাকায় গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী মাদক ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেট। যার নেতৃত্বে রয়েছে ঐ এলাকার খসরুর ছেলে চিন্হিত মাদক ব্যাবসায়ী কুদ্দুস । তারা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত থেকে ফেন্সিডিল ও ইয়াবা এনে নিত্ব নতুন অভিনব কৌশলে বারাদী, জগতি,জগতি ও চৌড়হাস এলাকাসহ জেলা শহরের আনাচে কানাচে অবাধে ছড়িয়ে দিচ্ছে যুব সমাজ ধ্বংশকারী অবৈধ মাদক দ্রব্য।

জানা যায়, বারাদী এলাকার কুদ্দুসের এ মাদক ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটটি প্রতিদিন লক্ষ টাকার গাঁজা, ফেনসিডিল ও ইয়াবার রমরমা বেচাকেনা করে যাচ্ছে। যার শিকার হচ্ছে স্থানীয় কিশোর যুবক সহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। যার ফলে ঐ এলাকার আইন শৃংখলা পরিস্থিতির দিনদিন চরম অবনতি ঘটছে।স্থানীয় কিশোর যুবকদের মাঝে বাড়ছে চুরি,ছিনতাই,মারামারি ও ইভটিজিং সহ ভয়াবহ সব অপরাধ প্রবনতা।স্থানীয় অভিভাবকরা সন্তানের সু-ভবিস্যত নিয়ে চরম শংকায় দিন কাটাচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে নির্বিঘ্নে রমরমা মাদক ব্যাবসা চালিয়ে যাচ্ছে কুদ্দুসের মত কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ীরা। যেন দেখার কেউ নেই ! বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের মুখে মাদকের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে কারবারিরা। আগে এক বোতল ফেনসিডিল কাস্টমার ভেদে চার থেকে ছ’শ টাকায় বিক্রি হলেও এখন বিক্রি হচ্ছে হাজার বারোশ টাকা কিংবা তারও বেশি দামে। ভারত থেকে আনা ‘চম্পা সুপার’ নামের ইয়াবা বড়ি ৫০ থেকে ৮০ টাকার বদলে বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে দেড়শ টাকায়। কক্সবাজারের ইয়াবা ‘আর সেভেন’-এর দাম বেড়ে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

নির্ভর যোগ্য সূত্র বলছে, পাচারকাজে তারা এখন কৌশল বদল করেছে। নিয়মিত মাদক বহনকারীদের অনেকে গাঢাকা দেওয়ায় নতুন নতুন লোককে তারা এই কাজে লাগাচ্ছে। বিশেষ করে জেলার বাইরের লোকজনকে এনে তারা মাদক পাচারের কাজে ব্যবহার করছে।