উত্তরাঞ্চলের জেলা জুড়ে ভাইরাসজনিত “লাম্পি স্কিন” রোগে প্রদুর্ভাব দুশ্চিন্তায় খামারিরা

রাজশাহী ব্যুরোঃ উত্তরাঞ্চলের জেলা জুড়ে ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে গবাদি পশুর ‘লাম্পি স্কিন রোগ’। রাজশাহীসহ উত্তরা লের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এ রোগরাজশাহী, পুঠিয়া নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, জয়রহাট জেলায় এ রোগের ব্যাপকতা ছড়িয়ে পড়েছে। রাজশাহীর চারঘাট ও দুর্গাপুর উপজেলায় এ রোগের প্রদুর্ভাব খব বেশি। এছাড়া পাশের জেলা নওগাঁর সাপাহার, মান্দা, পোরশা উপজেলায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’।এতে করে অনেক গবাদি পশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তথ্য মতে রাজশাহীতে প্রায় ৬০ হাজার গরু আক্রান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা। ফলে এ রোগের আতঙ্ক ভর করেছে খামারিদের মধ্যে। প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তারা বলছেন আতঙ্কিত না হয়ে খামারিদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।রাজশাহীর তানোর উপজেলায় গ্রামা লের খামারগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে গরুর লাম্পি স্কিন রোগ (এলএসডি)। গত এক মাসে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় দেড় হাজার গরু। এর মধ্যে মারা গেছে একটি গরু। এ রোগের প্রতিষোধক ও সঠিক ওষুধ না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা।

খামারিরা জানান, এ রোগটি তাদের কাছে একেবারেই নতুন। প্রথমে গরুর শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুটি গুটি হয়ে ফুলে যায়। পরে গুটিগুলোতে ইনফেকশন হয়ে দগদগে ঘা সৃষ্টি হয়। ক্ষতস্থান থেকে চামড়া ও মাংস পচে যাচ্ছে। শরীরে উচ্চমাত্রায় জ্বর ও ব্যথা থাকায় এ সময় খাওয়া বন্ধ করে গরুগুলো নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আক্রান্ত গরু দুর্বল হয়ে অনেক সময় মারাও যাচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা জানান, উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও দুইটি পৌরসভা এলাকায় ৮-১০টি খামারি রয়েছেন। এসব খামারে প্রায় ৭-১০ হাজার গরু আছে। এর মধ্যে প্রায় হাজারের অধিক বেশি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তবে খামারিরা বলছেন, আক্রান্ত গরুর সংখ্যা এর মধ্যে ২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

চিকিৎসকেরা বলছেন, এটি ভাইরাসজনিত একটি রোগ। মশা-মাছি ও কীটপতঙ্গের মাধ্যমে গরুর শরীরের ছড়িয়ে পড়ে। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় গত এক মাসে কয়েক হাজার গরু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে। এতে বেশ কিছু গরু অনাহারে থেকে দুর্বল হয়ে মারা যায়। পুঠিয়া উপজেলাতেও আক্রান্ত হয়েছে কয়েক হাজার গরু। এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, মারা যাওয়া গরু গুলো লাম্পি স্কিন ডিজিজে আক্রান্ত ছিল। তবে এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন না থাকায় সাধারণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু গরু দুর্বল হয়ে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হারিয়ে মারা যায়।

পুঠিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোখলেছুর রহমান বলেন, এটা ভাইরাসবাহিত রোগ। মশা-মাছির মাধ্যমে এই রোগ ছড়াচ্ছে। মশার থেকে গবাদি পশুকে দূরে রাখতে পারলে গবাদি পশু এই রোগে আক্রান্ত হবে না। আক্রান্ত হওয়ার শুরুতেই চিকিৎসা নিতে পারলে পশুর মৃত্যুহার কমানো সম্ভব। রাজশাহী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা হুমায়ুন কবীর বলেন, এ বছরই নতুন করে এই রোগ ব্যাপক হারে ছড়িয়েছে। এই রোগের কোনো ভ্যাকসিন নেই। এই রোগে মৃত্যুহার খুবই কম। তবে অন্যান্য রোগে দুর্বল হয়ে থাকলে মারা যেতে পারে। তিনি আরও জানান, রাজশাহী জেলায় ছয় লাখ গরু রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ হাজার গরু এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে তদারকি করা হচ্ছে। আক্রান্ত পশুর যতœ ও খামার পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অন্য কোনো চিকিৎসা নেই। তবে বেশি জ্বর থাকলে শুধুই প্যারাসিটামল সেবন করানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে