আজকের মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক : পূর্ব ঘোষিত মানববন্ধন কর্মসূচি স্থগিত করেছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ এবং দ্রুত নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আজ ৩০ মার্চ এই মানববন্ধন পালনের কথা ছিল।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আরামবাগে গণফোরাম কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জোটের জরুরি সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান জোটের অন্যতম শরিকদল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব।

কর্মসূচি স্থগিত করার কারণ সম্পর্কে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আরেক শীর্ষ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আমাদের মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে খোঁড়াখুঁড়ি চলছে, দাঁড়াবার জায়গা নেই। তাই এই কর্মসূচি আমরা স্থগিত করেছি। এটা আমরা পরে করব। এছাড়া মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আমরা আলোচনা সভা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কোথাও হল ভাড়া পাওয়া যায়নি। তারপরও আমরা ৩১ মার্চের মধ্যে ঢাকা শহরের যে স্থানে হল ভাড়া পাই সেখানেই স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা করার চেষ্টা করব।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের দায়িত্বহীনতার অভিযোগ তুলে আ স ম আব্দুর রব বলেন, বনানীর এফআর টাওয়ারে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সে বিষয়ে আলোচনার জন্য আমরা জরুরি বৈঠকে বসেছিলাম। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মনে করে, সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণেই এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে এবং এতোগুলো মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

তিনি বলেন, কারণ সেখানে ২২তলা বিল্ডিং তৈরি করতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু মানুষকে উদ্ধার করার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিল্ডিং করতে দিলেন, কিন্তু সেখানে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে মানুষকে উদ্ধার করার ব্যবস্থা নেই- তাহলে আপনি বিল্ডিং করার অনুমতি দিচ্ছেন কেন?

আ স ম আবদিুর রব বলেন, চকবাজারে আগুন লাগছে, মানুষকে উদ্ধার করতে পারলেন না। লঞ্চ দুর্ঘটনা হয়, মানুষ খুঁজে পাওয়া যায় না, গাড়ি অ্যাকসিডেন্ট হয়ে গতকাল ২৪ জন মারা গেছে। গাড়ির ফিটনেস নেই, ড্রাইভারের লাইসেন্স নেই, তাহলে গাড়ি চালাতে দিচ্ছেন কেন?

তিনি বলেন, এগুলো দেখে মনে হচ্ছে সরকার ক্ষমতা কুক্ষিগত ও শুধু এক ব্যক্তির শাসন কায়েম করার জন্য ব্যস্ত। জনগণের জান-মালের নিরাপত্তার জন্য সরকারের কোনো দায়-দায়িত্ব নেই। আমরা তীব্র ভাষায় এর নিন্দা জানাচ্ছি এবং ঘৃণা প্রকাশ করছি। সেই সঙ্গে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেয়া এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানাচ্ছি। এছাড়া ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটতে পারে, সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।