আজও উত্তাল তিন বিশ্ববিদ্যালয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বাধীনতা দিবসে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা সম্বোধন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। এর জেরে আজও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে শিক্ষার্থীরা। ছাত্রলীগের আটক ৬ কর্মীর মুক্তির দাবিসহ ৪ দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আজও অবরোধ অব্যাহত রেখেছে ছাত্রলীগের একাংশ। এদিকে ২ শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গতকাল থেকে উত্তাল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে সম্বোধন করেন উপাচার্য এস এম ইমামুল হক। এরপর থেকেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে তার ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করেন। তাদের অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধের ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয়া হয়। দাবিতে অনড় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে গতকাল শনিবার বৈঠকে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৈঠকে উপাচার্য আর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবে না এমন আশ্বাস দেয়া হলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে অব্যাহতি দিতে সম্মত হয়। এর প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো খুলে দেয়া হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি অব্যাহত রাখে শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার তারা উপাচার্যের পদত্যাগ বা তাঁর ছুটিতে যাওয়ার বিষয়ে লিখিত কাগজের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। কাগজ হাতে না পাওয়া পর্যন্ত তারা ক্লাসে ও একাডেমিক কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় : আটক ছয় ছাত্রলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা প্রত্যাহার, প্রক্টরের পদত্যাগসহ চার দফা দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক বন্ধ রেখে তার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। বন্ধ করে দেয়া হয় শাটল ট্রেন। দুপুর ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়। কর্তৃপক্ষের এই আহ্বানে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা সাড়া দেয়নি। পরে পুলিশ এসে তাদের উঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বেধে যায়। পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। ছাত্রলীগ কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। এরপর মূল ফটক থেকে সরে ছাত্রলীগ কর্মীরা শাহ আমানত ও সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে অবস্থান নেয়। সেখান থেকেই তারা পুলিশের উদ্দেশে ইটপাটকেল ছুঁড়তে শুরু করে। আন্দোলনের মুখে সকাল থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষকদের কোনো বাস শহরে যেতে পারেনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে থাকা অন্তত ৩০টি বাস ও গাড়ির চাকা কেটে দেওয়া হয়েছে। একই চিত্র আজও বহাল আছে।

আজ সোমবার সকাল থেকেও শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়গামী শাটল ট্রেন বন্ধ রেখেছে। এর ফলে এতে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত ক্লাস-পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়েছে। ক্যাম্পাসে রিকশা ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : দুই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। কয়েকদিন আগে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয়া হলেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ বিষয়ে সাংবাদিকরা চেষ্টা করেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাননি। এরপর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশো শিক্ষার্থী ক্লাস-পরীক্ষা-বর্জন করে একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবিতে আজও তারা ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করেন বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।